১৯৫৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ (তৎকালে পূর্ব পাকিস্তান)-এর পুরান ঢাকায় এক গড়ে ওঠা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আবু মোজাফ্‌ফর মোহিউদ্দিন মোহাম্মদ অরাঙ্গজেব চৌধুরী।
১৯৭৮ সালে তিনি Bangladesh Naval Academy-এ প্রবেশ করেন এবং ১৯৮০ সালে এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চে গান্নারি অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন।
তারপর তিনি দেশের শীর্ষ প্রতিরক্ষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন National Defence College (Bangladesh) ও Defence Services Command and Staff College থেকে স্নাতক ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। 
এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের Surface Warfare Officers’ School (SWOS)-এও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

অরাঙ্গজেব চৌধুরীর সামরিক পথচলা ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। তিনি এক যুদ্ধযান, দুই অফশোর রেসকিউ কমিশন, একটি বড় প্যাট্রল ক্রাফট, একটি নৌবাহিনীর ঘাঁটি ও চট্টগ্রাম নৌ এলাকার কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 
তিনি ছিলেন Bangladesh Marine Academy-র কমান্ড্যান্ট এবং Bangladesh Marine Fisheries Academy-র প্রিন্সিপাল। Wikipedia
তাছাড়া তিনি ছিলেন বিউএন ডকইয়ার্ড (BN Dockyard) কমোডোর এবং নৌ সদর দপ্তরে অপারেশন ও পার্সোনেল বিভাগের সহকারী চিফ অব নেভাল স্টাফ। 
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে তিনি Bangladesh Coast Guard-এর পরিচালক সাধারণ (DG) হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন।
২६ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে তিনি নৌবাহিনীর চিফ অব নেভাল স্টাফ (CNS) হিসেবে নিযুক্ত হন। 
তারই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি অ্যাডমিরাল র‌্যাঙ্ক পান।
তবে তার মেয়াদ দীর্ঘ হয়নি—প্রায় এক কোটি ছয় মাস পর তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

তিনি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও অপারেশনে সাফল্য অর্জন করেন ও বেশ কিছু জাতীয় ও সামরিক সম্মাননা লাভ করেন। যেমন নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ পদকগুলোর মধ্যে এক– “নৌবাহিনী পদক (NBP)”, “অসামান্য সেবা পদক (OSP)” ইত্যাদি।
এক সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি জার্মান নৌবাহিনী একাডেমিতে প্রশিক্ষণের সময়ে অসাধারণ স্কোরের জন্য পারফরমেন্স গোল্ড মেডাল পান। Dhaka Tribune

নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড-এ দীর্ঘ সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের পর চরম অবস্থায় অবসর নেন। তারপরও তিনি দেশের নৌসামরিক নীতিমালা, নৌ অপারেশন ও হাই-লেভেল যোগাযোগে এক সক্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

অরাঙ্গজেব চৌধুরী একজন পরিবারের মানুষ। তাঁর স্ত্রী ডঃ আফরোজা অরাঙ্গজেব, একজন গাইনোকলজিস্ট এবং অ্যাপোলো হসপিটালস চেইনের সঙ্গে যুক্ত। 
এই দম্পতির রয়েছে এক পুত্র ও এক কন্যা।

অরাঙ্গজেব চৌধুরীর জীবনীতে দেখা যায়—এক সাধারণ ঢাকাবাসীর ছেলে কিভাবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণ অর্জন করে, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড-এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতায় অবদান রাখছেন। তাঁর পথচলা থেকে পাওয়া শিক্ষা, নেতৃত্ব-চর্চা ও দায়িত্বের মনোভাব আজও তরুণ নৌ অফিসারদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

Was this article helpful?
YesNo

Leave a Reply

Close Search Window