জনাব আবদুল গোফরান ১৮৮৮ সালে ফেনীর সদর উপজেলার শরিষাদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন মুন্সী নিজামউদ্দীন ভূঁইয়া এবং মা ছিলেন বেগম আলকাস বানু। তার পিতামহ শেখ গোলাম মোহাম্মদ, এবং পূর্বপুরুষ শেখ মোহাম্মদ গসাই ভূঁইয়া, যারা পরিবারকে শিক্ষিত ও আদর্শবান হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।
শিশুকালে তিনি শরিষাদিতে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে শিক্ষাজীবনে তিনি অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন। ১৯০৬ সালে ফেনী হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯০৮ সালে কলকাতা মাদ্রাসা থেকে আই.এ., ১৯১০ সালে বি.এ. এবং ১৯১৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এল. ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি নোয়াখালী বারে যোগদান করেন এবং আইন পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
রাজনীতিতে তার যাত্রা শুরু হয় ১৯২১ সালে, যখন তিনি গান্ধীর আহবানে অ-সহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪০ সালে তিনি মুসলিম লীগে যোগদান করেন এবং নোয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৪৬ সালে তিনি সোহরাওয়ার্দীর মন্ত্রিপরিষদে সরবরাহ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি নোয়াখালী বারের সরকারি কৌশলী, সদর লোকাল বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং চারবার নোয়াখালী পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিক্ষা ও সমাজসেবায় তার অবদান অসামান্য। তিনি নোয়াখালীর আহমেদীয়া হাইস্কুল, আহমেদীয়া মাদ্রাসা, কেরামতিয়া মাদ্রাসা এবং নোয়াখালী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়াও তিনি আঞ্জুমানে খাদেমুল ইসলামের কয়েকবার সভাপতি ছিলেন। ১৯১৯ এবং ১৯৩৫ সালে তিনি যুক্ত বাংলার প্রাদেশিক সভার সত্য নির্বাচিত সদস্য হন। জনসেবামূলক কাজে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্রিটিশ সরকার ১৯৩৩ সালে তাকে ‘খান বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
জনাব আবদুল গোফরান ১৯৪৯ সালের ১০ অক্টোবর তার নিজ গ্রাম শরিষাদিতে ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন একজন আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এবং সমাজসেবক, যিনি তার জীবন ও কর্মের মাধ্যমে নোয়াখালী ও প্রদেশের সমাজকে অমলিন অবদান প্রদান করেছেন।
Last modified: অক্টোবর ১৩, ২০২৫