বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনীতিতে কিছু ব্যক্তিত্ব আছেন, যারা তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি, উদ্যোগ ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি নতুন শিল্পের পথ প্রশস্ত করেছেন। এমনই একজন ব্যক্তি হলেন আলহাজ্ব আনসার উদ্দিন আহমদ, যিনি বাংলাদেশের সিরামিক শিল্পের জনক হিসেবে সুপরিচিত। তাঁর উদ্যোগ, নেতৃত্ব ও সমাজসেবার দিকনির্দেশনা বাংলাদেশের শিল্পজগতে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
আলহাজ্ব আনসার উদ্দিন আহমদ জন্মগ্রহণ করেন ১লা ফেব্রুয়ারি ১৯২৬ সালে, লক্ষীপুরের দীঘলী গ্রামে। তাঁর পিতার নাম হাজী তরিকুল্লাহ, যিনি ছিলেন সমাজসেবী ও ধার্মিক ব্যক্তি। ছোটবেলা থেকেই আনসার উদ্দিনের মধ্যে নেতৃত্ব ও দায়িত্ববোধ লক্ষ্য করা যেত।
প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন দীঘলী হাই স্কুল থেকে। পরবর্তীতে তিনি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী সমিতির একজন সক্রিয় সদস্য ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সমাজসেবার সঙ্গে জড়িত হন। তাঁর শৈশব ও যৌবনের শিক্ষা-জীবন তাঁকে সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং নেতৃত্বের গুণাবলীতে সমৃদ্ধ করে।
আলহাজ্ব আনসার উদ্দিন আহমদ সিরামিক শিল্পের একজন পথপ্রদর্শক। তিনি বর্তমানে পিপলস সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশে সিরামিক শিল্পের বিকাশে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি শুধু শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু করেননি, বরং দেশীয় উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক মানের সিরামিক পণ্যের বিকাশে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বের ফলে বাংলাদেশে সিরামিক পণ্যের মান ও বাজার প্রতিযোগিতার মান উন্নত হয়েছে।
আলহাজ্ব আনসার উদ্দিন আহমদ সামাজিক ও পেশাগত ক্ষেত্রে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি:
-
বাংলাদেশ প্রকৌশলী সমিতি-এর সদস্য
-
ঢাকা শিল্প ও বণিক সমিতি-এর সদস্য
-
শিল্প উপদেষ্টা কমিটি, বাংলাদেশ সরকার-এর একজন সক্রিয় সদস্য
এই দায়িত্বগুলো তাঁকে দেশের শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত রেখেছে। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় শিক্ষা ও সমাজসেবার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।
আলহাজ্ব আনসার উদ্দিন আহমদ শুধুমাত্র একজন শিল্প উদ্যোক্তা নন; তিনি একজন নেতা, সমাজসেবক ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথপ্রদর্শক। বাংলাদেশের সিরামিক শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানের স্তরে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি দেশের শিল্পখাতকে নতুন দিগন্তে উন্নীত করেছেন।
তাঁর জীবন প্রমাণ করে যে উদ্যোগ, দক্ষতা এবং নৈতিক নেতৃত্বের মেলবন্ধন দেশের শিল্প, অর্থনীতি ও সমাজকে স্থায়ীভাবে উন্নত করতে পারে।
সুত্র: নোয়াখালীর চরিতাভিধান
লেখক : জাহিদুল গণি চৌধুরী
Last modified: অক্টোবর ২৮, ২০২৫