ইকবাল বাহার জাহিদ : যুবসমাজের স্বপ্নচাষি

ইকবাল বাহার জাহিদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফেনী জেলার এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে। জীবনের শুরুর দিক থেকেই তিনি দেখেছেন সীমিত সুযোগ, সংগ্রাম, এবং কঠোর বাস্তবতা; কিন্তু এগুলো কখনোই তাকে থামাতে পারেনি। বরং তার ভেতর তৈরি হয়েছে এক ধরনের মানসিক দৃঢ়তা—নিজেকে গড়ে তোলার এবং অন্যদের জীবনেও আলো ছড়ানোর।  তিনি নিজের মত করে শেখা, জিজ্ঞাসা ও পরিশ্রমের চর্চা বজায় রেখেছেন এবং সফল হয়েছেন তার নিজে পথ খুজে পেয়েছেন হাজারো তরুন যুবককে পথ দেখিয়ে চলেছেন।

শৈশব ও বেড়ে ওঠা

ইকবাল বাহারের জন্ম ও বেড়ে উঠা যৌথ পরিবারে ফেনী জেলার ফুলগাজি উপজেলায়। গ্রামেই যাকে এসএসসি পর্যন্ত গ্রামের লেখাপড়া।  ছোটবেলায় তার চঞ্ছল মন তাকে  পড়াশুনা থেকে দূরে রাখতে চাইতো।  কিন্তু পারিবারিক শৃঙ্খলা একটি সুন্দর শৈশব নিয়ে বেড়ে উঠেছেন।  প্রাথমিক শিক্ষাজীবনে গ্রামের বাড়িতে হারিকেন দিয়ে লেখাপড়া করেছেন লজিং মাস্টার কাছে। তবুও পড়া থেকে ছুটি নিতে নানারকম দুষ্ঠবুদ্ধি খেলতো তার মনে। আর বাবা মার কাছে জুটতো কড়া শাসন।

যৌথ পরিবারে বেঁড়ে ওঠা একজন মানুষকে অনেক কিছু পরিবার থেকে শিখিয়ে দেয়। তিনিও তার ব্যতিক্রম নন। ‘‘ শেয়ারিং, কেয়ারিং, সহানুভূতি, পরে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়াতে পারা – এই সবই আমার যৌথ পরিবারের শিক্ষা’’ বলেন তিনি। গ্রামের শৃংখল পারিবারিক পরিবেশ থেকে ঢাকায় এসে বিজ্ঞান বিভাগে লেখাপড়া শুরু করলেন ইঞ্জিনিয়ার হবেন বলে। এটা ছিল তিতুমীর কলেজ। তখনকার সময়ে প্রথম বিভাগে পাস করেও কোনো ভালো কলেজে ভর্তির সুযোগ জুটেনি। কারণ সে অমনোযোগিতা। ঢাকার স্বাধীন জীবন যেন তাকে কতোগুলো পাখা গজিয়ে দিলো। যেমন- নাটক, সিনেমা, অভিনয়, গান, গীটার, উপস্থাপনা এগুলো বেশী ভালো লাগে। যা হবার তাই হল, এইচএসসি  একেবারে ফেল করে বসলেন।

আশা নিরাশার জীবন

হতাশা আর সকলের নিরাশার মধ্যে এমন বাবা আমাকে সাহস দিলেন, বললেন “তোমার উপর আমার আস্থা আছে, আবার শুরু করো”তোমাকে দিয়ে হবে।    উচ্চমাধ্যমিক শেষে প্রকৌশল বিদ্যায় পড়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে না পেরে তিতুমির কলেজে বিকম সম্পন্ন করলেন। তারপর জীবনের প্রতিটি সেকেন্ড কাজে লাগানোর চিন্তা করলেন।  পড়া লেখা, টিউশনি, পার্ট টাইম কাজ সব একসাথে চলল। তারপর  বিকমে সেকেন্ড ডিভিশন পেয়ে সোজা চার্টার্ড একাউন্টেন্সি ভর্তি হলেন।

উচ্চশিক্ষায় তিনি বাণিজ্য বিষয়ে MCom এবং পরে MBA সম্পন্ন করেন। এছাড়া Chartered Accountancy (CA inter)-এর শিক্ষাও অর্জন করেন। শিক্ষার পাশাপাশি তার আগ্রহ ছিল টেকনোলজি, যোগাযোগ দক্ষতা, এবং নেতৃত্বে—যা ভবিষ্যতের পথচলায় তাকে বহুমাত্রিক শক্তি দিয়েছে। তার পেশাগত জীবনের শুরুর দিকে তিনি গ্রামীণ সাইবার নেটের মতো প্ল্যাটফর্মে কাজ করে ICT দক্ষতা শানিত করেন। পরে শিক্ষকতা, নিউজ প্রেজেন্টেশন, অ্যাঙ্করিং, এবং পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করেছেন।

জীবন নামের খেলাঘর

একসময় এক সুন্দরী মেয়ের প্রেম তারপর তাকে পাবার নেশায় কঠোর পরিশ্রম মাষ্টার্স গ্রামীণ সাইবারনেট চাকরি এবং অবশেষে বিয়ে। সে সুন্দরী চামেলীকে বিয়ে করেও চলল সংগ্রাম। সিএ পড়া আর গ্রামীণ সাইবারনেট আকাউনটস ম্যানেজারের পদ  ৯-৫ টা চাকরী সামাল দিতে হতো।  আমার ভাল লাগতো না। আমার মনে হতো আমি যা করতে পারি তার খুব সামান্যই আমি প্রয়োগ করতে একদিন ৫ বন্ধু মিলে এরকম একটা স্বপ্নের বাস্তবায়ন শুরুও করলেন। কিন্তু স্বপ্ন যেন ধরা দেয়না।

তারপর গেলেন গ্রামীণ শক্তিতে অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার থেকে নিজের কোম্পানী অপটিম্যাক্স এর গোড়া পত্তন হয়। এরমধ্যে ২টা মাষ্টার্স আর ১টা এমবিএ ডিগ্রি। তার ব্রেইন চাইল্ড অপটিম্যাক্স যাত্রা শুরু করলো। কিন্তু যাত্রাটা অতটা শুভ ছিল না। ১৮ মাস এর মাথায় কোম্পানি বন্ধ হবার উপক্রম হল। একই সময়ে অসুস্থ হয়ে তার হাতের উপর মারা গেলেন তারই প্রিয় বাবা। চারিদিকে ঘোর অন্ধকার নেমে এলো যেন।

চাকুরী থেকে ব্যবসায়

মাঝখানে কিছুদিন সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড এ জব করেছেন জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে। লোভনীয় মাল্টি ন্যাশানাল কোম্পানির চাকরী নাকি চাকরী ছেড়ে শুধু ব্যবসায় মনোযোগ?  নিজের সাথে বোঝাপড়া করে অনিশ্চয়তার জীবন হাতে নিয়ে চাকরী ছেড়ে দিলেন একদিন। তারপর যারপর নাই চ্যালেঞ্জ নিয়ে ও অস্বাভাবিক পরিশ্রম করে ও মেধা খাঁটিয়ে আবার হাটি হাটি পা পা করে পরবর্তী ২-৪ বছরে ঘুরে দাঁড়ালো অপটিম্যাক্স। যে কোম্পানির বয়স এখন ২২ বছর।

তিনি বলেন, সবসময় সৎ থাকতে বাবা শিখিয়েছেন। বুক ফুলিয়ে চলার আশায় ভালোমানুষ হবার লোভটা সবসময় জাগিয়ে রেখেছি। বেশ কয়েকবার দেশের বাইরে সেটেল হবার সুযোগ থাকলেও যাইনি। কারণ আমার দেশে থাকতেই বেশী ভালো লাগে কিউট যতসব সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে। বলছিলেন তিনি।

টেক উদ্যোক্তা হিসেবে উত্থান

টেকনোলজি এবং ব্যবসায়িক দূরদৃষ্টি থেকে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন OptiMax Communication Ltd—যা বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় Broadband ISP ও IIG প্রতিষ্ঠান। এখানে বর্তমানে ৪০০-এরও বেশি প্রযুক্তিবিদ ও যুব কাজ করছে। পরে তিনি Aalaadin.com (ই-কমার্স), UTV Live (অনলাইন টিভি), এবং আরও বেশ কিছু প্রযুক্তি ও মিডিয়া-ভিত্তিক কোম্পানি পরিচালনা করেন। দুই দশকের বেশি সময় ICT সেক্টরে কাজ করে তিনি হয়ে ওঠেন দেশের একজন পরিচিত টেক উদ্যোক্তা।

 ‘নিজের বলার মতো একটা গল্প’

২০১৮ সালে তিনি শুরু করেন তার জীবনের সবচেয়ে বড় সামাজিক আন্দোলন— “নিজের বলার মতো একটা গল্প” ফাউন্ডেশন| উদ্দেশ্য ছিল একটাই—বাংলাদেশের ৫০ মিলিয়ন বেকার যুবকে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা, স্কিল ও দিকনির্দেশনা দেওয়া। তার নেতৃত্বে এই ফাউন্ডেশন কাজ করে ৫টি মূল স্তম্ভে:

  1. ৯০ দিনের বিনামূল্যের উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ

  2. ভ্যালু, নেতৃত্ব, এবং ১৬টি জীবন-দক্ষতা শিক্ষা

  3. ১০০০ ক্যাম্পাস এন্টারপ্রেনারশিপ ক্লাব

  4. স্বেচ্ছাসেবা ও সামাজিক কাজ

  5. Golpo Incubation — বিনিয়োগ ও পার্টনারশিপ ম্যাচমেকিং

ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য শুধু উদ্যোক্তা তৈরি নয়; বরং ভালো মানুষ তৈরি করা।

 

এভাবে জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য ঠিক করলেন ‘‘চাকরী করবো না, চাকরী সৃষ্টি করবো’’।  নিজে স্বপ্ন দেখি ও তরুণদের স্বপ্ন দেখাই – এটা আমার দেশের জন্য কাজ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা যা আমি কোন প্রকার পারিশ্রমিক ছাড়া করি এবং প্রতিদিন প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা সময় দিই “নিজের বলার মতো একটা গল্প” ফাউন্ডেশনে। গত ৭ বছর ১১ মাসে ২৯ লাখেরও বেশী তরুণের মাঝে “প্রতিদিন প্রশিক্ষণ” দিয়ে এই স্বপ্ন ছড়িয়ে দিতে পেরেছি – এটাই আমার বিশাল প্রাপ্তি।

বিশ্ব রেকর্ড: টানা ২৮৫৫ দিন অনলাইন প্রশিক্ষণ

ইকবাল বাহার জাহিদের সবচেয়ে বড় পরিচয়— টানা ২৮৫৫ দিন, প্রতিদিন, বিরতিহীন অনলাইন প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এটি শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড৩১টি ব্যাচ, প্রতিটি ৯০ দিন | ২.৮ মিলিয়ন যুব (৬৪ জেলা + ৫০ দেশের NRB)| প্রতিটি ব্যাচে ৫৭০টি কন্টেন্ট| প্রতিদিন ৫–৬ ঘণ্টা সময় ব্যয় (পুরোটাই বিনামূল্যে)| ধর্মীয় উৎসব, জাতীয় ছুটি, ব্যক্তিগত কোনো ব্যস্ততা—কিছুই তাকে একদিনও বিরতি নিতে বাধ্য করতে পারেনি। তিনি বলেন, “এই কাজটা আমার সামাজিক দায়িত্ব। বিনিময়ে কিছু নিতে আসিনি।”

উদ্যোক্তা তৈরির বাস্তব প্রভাব

তার ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণে এখন পর্যন্ত— ১,৩০,০০০ নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, এদের মাধ্যমে ৫,০০,০০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ২.২৫ লাখ নারী সরাসরি ক্ষমতায়িত, ১ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি Money Management ও Skill Development প্রশিক্ষণ, ৬৪ জেলার প্রতিটি উপজেলা, থানা, গ্রামে পৌঁছে গেছে তার এই উদ্যোগ, ৫০০০+ স্বেচ্ছাসেবক—৬৪ জেলা, ৪৯২ উপজেলা ও ৫০ দেশে| এটি বাংলাদেশে যুব উদ্যোক্তা তৈরির সবচেয়ে বড় সফল মডেল।

তার শেখানোর মূল দর্শন হলো “উদ্যোক্তা হবে? প্রথমে ভালো মানুষ হও।” তার মতে, ব্যবসা শিখিয়ে কাউকে উদ্যোক্তা বানানো যায় না— উদ্যোক্তা হওয়ার মূল তিন শক্তি। ইতিবাচক মনোভাব, ভালো মানুষের চরিত্র, দায়িত্ববোধ, তার ৯০ দিনের কোর্সে শিক্ষার্থীরা শেখে: মানসিক প্রস্তুতি, আইডিয়া জেনারেশন, মার্কেটিং, সেলস, কোম্পানি গঠন, প্রস্তাব লেখা, ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট, লিডারশিপ, কমিউনিকেশন, আর্থিক শিক্ষা, ডিজিটাল স্কিল, স্বেচ্ছাসেবা। 

সমাজসেবায় তার অবদান

উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি বিশাল পরিসরে তিনি মানবিক কাজ পরিচালনা করেছেন: তারমধ্যে রয়েছে ৫৫,০০০ ব্যাগ রক্ত দান, ৭৮,০০০ গাছ লাগানো, ৬৬,০০০ মানুষের ইফতার, ৮৫,০০০ পথশিশু ও বৃদ্ধকে খাবার প্রদান, ৫৪,০০০ শীতবস্ত্র বিতরণ, ২৬,০০০ বন্যা-দুর্যোগ সহায়তা, কোভিড-১৯ এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ (৮,০০০ মানুষ), একটি গৃহহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ, ৬ যুবককে উদ্যোক্তা হবার জন্য আর্থিক সহায়তা। সামাজিক কাজ তার মতে: “একজন মানুষের জীবনেও যদি আলো দিতে পারি, সেটাই আমার অর্জন।”

জীবনের অর্থ সেখানে প্রশান্তি

আর টিভি নিউজ প্রেজেনটেশান ও বিজনেস প্রোগ্রাম উপস্থাপনা, ওটাতো শখের বশে করতেন। এসএসসি পাশ করেই তার স্ত্রী চামেলি কামাল তার সাথে থাকতে শুরু করেন। বাহার বলেন, চামেলি আমার জীবনে না এলে এবং ওর সহযোগিতা না পেলে আমার জীবনে অনেক কিছুই হতো না।

জীবনের প্রায় সকল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণী পেলেও ক্যারিয়ার, পরিবার, আত্মীয় পরিজন ও বন্ধু বান্ধব ও নিজের কাছে প্রথম শ্রেণীতে থাকাটা কখনো হাত ছাড়া করেননি স্বপ্নবাজ এই মানুষটি।

সর্বোপরি আমার কাছে সফলতা মানে খুশি থাকা। বলেন তিনি। এখন আপনাদের লাখো তরুণদের “নিজের বলার মত একটা গল্প” তৈরির জন্য লেগে থাকবো জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ইনশাল্লাহ… এই কাজ আমার বিবেক ও আত্মাকে শান্তি, আমাকে আনন্দ দেয়।

পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

তার কাজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার—

  1. Post & Telecommunication Award 2023 — ICT মন্ত্রণালয়

  2. Most Admired Entrepreneur of the Year 2019 — CMO Asia, Singapore

  3. South Asian Youth Conference & Leadership Award 2019

  4. Global Youth Leadership Award 2021 — Nepal

যুক্তরাষ্ট্রের Business Insider, Yahoo News, INCAP, এবং বাংলাদেশের বহু জাতীয় পত্রিকায় তার কর্মযজ্ঞ প্রকাশিত হয়েছে। তার ভিডিও, লাইভ সেশন ও বক্তৃতা মাসে ১৭ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছায়
ইউটিউব, ফেসবুক, ওয়েবসাইটসহ নানা মাধ্যমে তিনি শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে দেন।

তিনি বিশ্বাস করেন— “একজন মানুষ একা বড় হলে গল্প হয় না; অন্যকে বড় হতে সাহায্য করলে তবেই গল্প হয়।” জীবনের শেষ পর্যন্ত নিজের সময়, শক্তি ও জ্ঞান যুবসমাজের উন্নয়নে ব্যয় করতে চান। তার লক্ষ্য: আগামী দুই বছরে ৩ লক্ষ নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, দেশে ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান, বাংলাদেশকে বিশ্বের একটি শক্তিশালী উদ্যোক্তা-জাতিতে পরিণত করা।

সূত্র: পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ

অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত সাক্ষাৎকার।

https://www.thedailystar.net/opinion/views/interviews/news/the-inspiring-story-nijer-bolar-moto-ekta-golpo-foundation-3307031

https://www.thedailystar.net/business/organisation-news/press-releases/news/nijer-bolar-moto-ekta-golpo-marks-7-years-impactful-work-3797886

Business Insider

Was this article helpful?
YesNo

Leave a Reply

Close Search Window