এ. কে. এম. শাহজাহান কামাল (১ জানুয়ারি ১৯৫০ – ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩) ছিলেন বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যবসায়ী। তিনি তৎকালীন নোয়াখালী-১১ এবং লক্ষ্মীপুর-৩ আসন থেকে একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। শেখ হাসিনার তৃতীয় মন্ত্রিসভায় তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের পর্যটন ও বিমান খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবেও ছিলেন।
১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের লক্ষ্মীপুর পৌরসভার আটিয়াতলী এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন শাহজাহান কামাল। তার পিতা ফরিদ আহমেদ এবং মাতা মাছুমা খাতুন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী ফেরদৌসি কামালের সঙ্গে এক পুত্র ও তিন কন্যার জনক। তার ছোট ভাই এ এস এম মাকসুদ কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শাহজাহান কামাল ১৯৬৩ সালে লক্ষ্মীপুর মডেল হাইস্কুল (বর্তমান লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৫ সালে চৌমুহনী সরকারি সালেহ আহমেদ কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে একই কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ শ্রেণি ও আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষায় অংশ নেন।
ব্যবসায়িক জীবনে তিনি জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে ২০০৯ সালে দায়িত্ব পালন করেন। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নেও তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
রাজনীতিতে তার সক্রিয় যাত্রা শুরু হয় ছাত্রজীবন থেকেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে তিনি ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন ও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে তিনি দৃঢ় ভূমিকা রাখেন।
১৯৭২ সালে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-১১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে তিনি ১৯৮৫ সালে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। ২০১১ সালে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি লক্ষ্মীপুর-৩ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১৮ সালে পুনরায় একই আসন থেকে তিনি একাদশ জাতীয় সংসদে মনোনীত হন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
২০১৮ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা ৮ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। তার মেয়াদকালে বিমান খাত ও পর্যটন উন্নয়নে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
এ. কে. এম. শাহজাহান কামাল ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ৩টা ১৯ মিনিটে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।
তথ্যসূত্র :
১. বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
২. দৈনিক প্রথম আলো
৩. বিডিনিউজ২৪
৪. সরকারি আর্কাইভ
৫. সংসদ সদস্য জীবনী তথ্যভাণ্ডার
৬. জাতীয় নির্বাচন কমিশন
৭. জেলা পরিষদ তথ্যসূত্র
৮. দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন রিপোর্ট
৯. মন্ত্রিসভা দপ্তর
১০. একাদশ জাতীয় সংসদ সংসদীয় কমিটির নথি
Last modified: এপ্রিল ১৩, ২০২৬