কবিরহাট উপজেলা: ইতিহাস, শিক্ষা ও অর্থনীতির ধারাবাহিক চিত্র

নোয়াখালী জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত কবিরহাট উপজেলার আয়তন ১৮৫.২৫ বর্গকিমি। উত্তরে বেগমগঞ্জ ও সেনবাগ উপজেলা, দক্ষিণে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা, পূর্বে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা এবং পশ্চিমে নোয়াখালী সদর উপজেলা। উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান ২২°৪৪´ থেকে ২২°৫৩´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°০৮´ থেকে ৯১°১৫´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।

জনসংখ্যা ও ধর্মীয় ভিত্তি
উপজেলার মোট জনসংখ্যা ১,৯৬,৯৪৪ জন। পুরুষ ৯২,৬০১, মহিলা ১,০৪,৩৪৩। ধর্মীয় ভিত্তিতে মুসলিম ১,৮৭,২৭১, হিন্দু ৯,৬৬৬, খ্রিস্টান ২ এবং বৌদ্ধ ৫। প্রধান জলাশয় হলো নোয়াখালী খাল।

প্রশাসনিক ইতিহাস ও ঐতিহাসিক নিদর্শন
২০০৬ সালের ৬ আগস্ট নোয়াখালী সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে কবিরহাট উপজেলা গঠিত হয়। মুগল আমলের কবির পাটোয়ারী জামে মসজিদ, তিন গম্বুজ বিশিষ্ট হৈয়া মিয়া মসজিদ এবং ছনখোলা দরবেশের মাজার উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় উপজেলা কেন্দ্রীয় স্থান কবিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে রাজাকারদের ক্যাম্প ছিল। পাকবাহিনী ও রাজাকাররা কোম্পানি হাট এবং ঘোষবাগ ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। উল্লেখযোগ্য যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে বাঞ্ছারামপুর যুদ্ধ, তাল মোহাম্মদ হাট যুদ্ধ, চাপরাশির হাট যুদ্ধ এবং কোয়ারিয়ার টেক যুদ্ধ।

শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
উপজেলার শিক্ষার গড় হার ৪৯.০%; পুরুষ ৪৮.৮% এবং মহিলা ৪৯.২%। কলেজ ২টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৫টি, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৮৭টি এবং মাদ্রাসা ৮টি। উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান: কবিরহাট সরকারি কলেজ (১৯৬৭), চাপরাশির হাট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৩), কবিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩৮), চাপরাশির হাট মাদ্রাসা (১৯০১) এবং কবিরহাট মাদ্রাসা (১৯০৫)।

অর্থনীতি ও কৃষি উৎপাদন
কৃষি প্রধান আয়ের উৎস। প্রধান ফসল: ধান, পাট, ডাল ও শাকসবজি। ফলমূল: আম, জাম, তাল, খেজুর, নারিকেল ও সুপারি। মৎস্য ও প্রাণিকাঠের খামারও এলাকায় প্রচলিত।

যোগাযোগ ও বাজার
পাকা রাস্তা ১৫২.২৪ কিমি, আধা-পাকা রাস্তা ০.৯৮ কিমি, কাঁচা রাস্তা ৬৮০.৪৩ কিমি। হাটবাজার ২০টি; উল্লেখযোগ্য: চাপরাশির হাট, কবির হাট, কালীর হাট, ভূঞার হাট, মিয়ার হাট ও করম বাজার।

বিদ্যুৎ, পানি ও স্যানিটেশন
উপজেলার সব ইউনিয়ন পল্লিবিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। ৩৫.৭% পরিবার বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। পানীয়জলের উৎস: নলকূপ ৮০.৮%, ট্যাপ ০.৩%, অন্যান্য ১৮.৯%। স্যানিটেশন: ৫৬.৪% পরিবার স্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পুনর্বাসন
১৯৭০ সালের ভোলা ঘূর্ণিঝড় এবং ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারের পুনর্বাসন কার্যক্রম ও এনজিও উদ্যোগ যেমন এনআরডিএস জরুরি সহায়তা প্রদান করেছে।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব ও সাংস্কৃতিক অবদান
আব্দুস শাকুর (সাহিত্যিক), ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ (সোনারগাঁয়ের স্বাধীন সুলতান) এবং রুম্মান বিন ওয়ালী সাব্বির (ফুটবলার) কবিরহাট উপজেলার গর্ব।

কবিরহাট উপজেলা সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, শিক্ষা, কৃষি ও বাণিজ্যের মেলবন্ধন, যা অঞ্চলকে সমৃদ্ধশালী ও আধুনিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সুত্র: banglapedia.org , wikipedia.org

সুবর্ণচর উপজেলা: নোয়াখালীর দক্ষিণে সমৃদ্ধ দ্বীপাঞ্চল

Was this article helpful?
YesNo

Leave a Reply

Close Search Window