বাংলার শ্বাশত রূপ, মেঘ, লতা, পাতার বিমোহিনী রূপকে যিনি গ্রন্থের পচ্ছদচিত্রে ও নকসায় ফুটিয়েছেন এক অসামান্য শিল্প প্রতিভার স্পর্শে। তিনি হলেন শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। তাঁর সে রূপ এতই নিরাবরণ যা শিক্ষিত অশিক্ষিত সব মানুষকেই মুগ্ধ করে। বাংলার সংস্কৃতি রুচিকে সহজ করে বেঁধে এই শিল্পী আমাদের গর্বের সম্পদে পরিনত হয়েছেন। তিনি ১৯৩৮ সালে ফেনী সদর উপজেলার শরিযাদি গ্রামের বিখ্যাত চৌধুরী পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। পিতা মরহুম আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী জনাব কাইয়ুম চৌধুরী ১৯৫৪ সালে ঢাকা আর্ট কলেজ থেকে ডিপ্লোমা লাভ করে স্বাধীনভাবে চিত্র কর্মে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৫৭ সালে সাময়িক ভাবে ঢাকা আর্ট কলেজে শিক্ষকতা করেন, পরে ১৯৬০ সালে ডিজাইন সেন্টারে ডিজাইনার হিসেবে যোগদেন। তিনি ১৯৬২ সালে “অবজারভার গ্রুপ অব পেপার্স’-এ প্রধান শিল্পী হিসেবে যোগদেন এবং ১৯৬৪ সালে ঢাকা আর্ট কলেজে পুনরায় শিক্ষকতা শুরু করেন। বর্তমানে উক্ত কলেজের ব্যবহারিক শিল্প বিভাগের প্রধানরূপে কর্মরত। শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী প্রায় তিন দশক ধরে এদেশের গ্রন্থ প্রকাশনা জগতে প্রচ্ছদ চিত্র অংকনে তাঁর অনন্য সৃজনী প্রতিভাকে সার্থকতার সংগে নিয়োজিত রেখেছেন। তাঁর অংকিত প্রচ্ছদচিত্রের কল্যাণে বাংলাদেশের গ্রন্থ প্রকাশনার মান আশাতীত ভাবে উন্নতি লাভ করতে সমর্থ হয়েছে।

জনাব কাইয়ুম চৌধুরী বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন শিল্প ও প্রকাশনা শিল্পের সংগে ১৯৫৪ সাল থেকে জড়িত। বিজ্ঞাপন শিল্পের সংগে সংগে সুকুমার শিল্প ও চলচ্চিত্র জগতেও কিছুদিন কাজ করেছেন। তিনি বহুজাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহন করেছেন। তিনি জাতীয় প্রদর্শনী ১৯৬০-৬৫ পর্যন্ত, সমকালীন শিল্পকলা প্রদর্শনী ১৯৬৩, ঢাকা স্কুল অব পেইন্টিং প্রদর্শনী ১৯৬২, সোসাইটি অব কনটেম্পোরারী আর্ট গ্যালারী ১৯৬৪, বাগদাদে গ্রুপ প্রদর্শনী ১৯৬৪, ওয়াশিংটন গ্রুম্প প্রদর্শনী ১৯৬৬, বিমূর্ত চিত্রকলা প্রদর্শনী ১৯৬৬,৫ম তেহরান বিয়েনাল প্রদর্শনী ১৯৬৬, লায়ন্স ক্লাব প্রদর্শনী ১৯৬৭, স্কেচগ্রুপ শো ১৯৭৩, এশিয়ান ট্রেড ফেয়ার নিউদিল্লী ১৯৭৩, ঢাকা আর্ট কলেজের রজতজয়ন্তী প্রদর্শনী ১৯৭৩, বাংলাদেশের সমকালীন চিত্রকলা প্রদর্শনী কলকাতা, দিল্লী, বোষে ১৯৭৩, ভারতে ট্রাইয়েনাল প্রর্দশনী ১৯৭৪, ৭৫, ৭৮, জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী ১৯৭৪, ৭৫, ৭৬, ৭৭, ও ৭৮, প্রথম প্রচ্ছদ চিত্র প্রদর্শনী ১৯৭৫, প্রীন্টস এন্ড ড্রইং শো ঢাকা ১৯৭৫, লাইফ ইন বাংলাদেশ ১৯৭৬, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী প্রদর্শনী ১৯৭৭, ৮০, একক চিত্রকলা প্রদর্শনী ওয়াশিংটন ডিসি ১৯৭৭, গ্রাফিক আর্ট প্রদর্শনী জি, ডি, আর ১৯৭৭, ১৫তম আন্তর্জাতিক সাওপাওলো বিয়েনাল ১৯৭৯, প্রথম এশিয়ান বিয়েনাল প্রদর্শনী তেহরান ১৯৭৯, ফুকুকা আর্ট গ্যালারী প্রদর্শনী ১৯৮০, এশিয়ান আর্ট বিয়েনাল প্রদর্শনী ১৯৮১, বাংলাদেশের চিত্র প্রদর্শনী হংকং ১৯৮১, দশম বিয়েনাল প্রদর্শনী চেকোশ্লাভাকিয়া ১৯৮২, এবং ২য় এশীয়ান বিয়েনাল প্রদর্শনী ঢাকা ১৯৮৩ উল্লেখযোগ্য। তাঁর চিত্রকর্ম নিউইয়র্ক আর্ট গ্যালারী, জাতীয় যাদুঘর (ঢাকা), বঙ্গভবন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, ও সাও পাওলো যাদুঘর, ব্রাজিল, এবং দেশে বিদেশে ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত আছে।

জনাব কাইয়ুম চৌধুরী ১৯৫৯ সালে রেলওয়ে টাইম টেবল কভার ডিজাইন প্রতিযোগীতায় প্রথম পুরস্কার, জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র পুরস্কার ১৯৬৪, ১৯৬৬, ১৯৬৮, ১৯৭০, ১৯৭৪, ১৯৭৫ ও ১৯৭৬ সাল, তিনি ছাড়া বাংলাদেশের অপর কোন শিল্পী এতো অধিকবার ‘জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র পুরস্কার’ লাভ করেননি। ১৯৬৩ সালে সুকুমার শিল্পে “জাতীয় পুরস্কার ‘১৯৬৪ সালে তেহরান বিয়েনালে “গ্রান্ড ইমপেরিয়াল প্রাইজ’, ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ আর্ট কলেজের ‘রজতজয়ন্তী পুরস্কার’, ১৯৭৭ সালে শিল্প কলা একাডেমী পদক, ১৯৮৩ সালে ২য় এশীয়ান বিয়েনালে প্রথম ও দ্বিতীয় পুরস্কার, ১৯৮০ সালে ফুকুকা আর্ট গ্যালারী প্রদর্শনীতে প্রথম ও দ্বিতীয় পুরস্কার এবং জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে প্রথম পুরস্কার লাভকরেন।

Was this article helpful?
YesNo

Leave a Reply

Close Search Window