প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক মনোমুগ্ধকর বিনোদন স্পট
ফেনী জেলার কাজিরবাগ এলাকায় সামাজিক বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে স্থাপিত কাজিরবাগ ইকো পার্ক ফেনীর একটি উল্লেখযোগ্য বিনোদন কেন্দ্র। পার্কটি না শুধুমাত্র ফেনী শহরের মানুষকে, বরং আশেপাশের এলাকার সাধারণ মানুষকে পারিবারিক এবং শিক্ষামূলক বিনোদনের সুযোগ প্রদান করছে। প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে এ স্থানের সবুজ শ্যামল পরিবেশ মনোরম এবং মানসিক প্রশান্তি প্রদান করে।
অবস্থান ও পৌঁছানোর উপায়
কাজিরবাগ ইকো পার্ক ফেনী-পরশুরাম সড়কের পাশে অবস্থিত। ফেনী শহর থেকে এটি মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে এবং ফেনীর মহিপাল থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও কুমিল্লার দর্শনার্থীরা বাসযোগে মহিপাল পৌঁছে সিএনজি, অটোরিকশা বা টমটমে পার্কে পৌঁছাতে পারেন। ফেনী ট্রাংক রোড বা রেলওয়ে স্টেশন থেকেও ভ্রমণ সহজ।
পার্কের আকর্ষণ ও বিন্যাস
পার্কটি বন বিভাগের পাঁচ একর জায়গায় মনোরম পরিবেশে নির্মিত। এখানে রয়েছে দর্শনার্থীদের বসার জন্য বেঞ্চ, ছায়ার জন্য ছাতা, শিশুদের জন্য শিশু কর্নার এবং পুকুরে নৌকাভ্রমণ সুবিধা। স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে বোটানিক্যাল গার্ডেন।
প্রবেশ পথেই দেখা মেলে নানা ধরনের ফুলের বাগান, পাকা হাঁটার পথ এবং গল্প করার জন্য প্রায় ২০টি বেঞ্চ। শিশুদের বিনোদনের জন্য মেরি গো-রাউন্ড, স্লিপার, ঢেঁকি, দোলনা, ব্যাঙের ছাতা সহ বিভিন্ন রাইড আছে। পার্কের ভেতরে দর্শনার্থীদের খাওয়া-দাওয়ার জন্য একটি রেস্তোরাঁও রয়েছে।
পশু-পাখির চিড়িয়াখানা ও বন্যপ্রাণী
পার্কের শেষপ্রান্তে চিড়িয়াখানার আদলে আলাদা কর্ণার তৈরি করা হয়েছে। এখানে ৬টি বানর, ৬টি ভারতীয় ময়ূর, ৮টি খরগোশ, তিতির, টার্কি, বনমোরগ এবং ৪টি হরিণ রয়েছে। পাশেই বিচরণ করছে সাদা রাজহাঁস।
বোটানিক্যাল গার্ডেন ও বাগান
পার্কের মাঝখানে রয়েছে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির আদর্শ বাগান, নার্সারি সেন্টার, বিভিন্ন বনজ, ফলদ, ঔষধি এবং বিরল ও বিলুপ্ত প্রজাতির সমন্বয়ে তৈরি একটি মিনি বোটানিক্যাল গার্ডেন। এছাড়া রয়েছে সুদৃশ্য ফুলের বাগান। দেশের দেশীয় ফুল যেমন গন্ধরাজ, রজনীগন্ধা, আলবেন্ডা, রংগম, মাধবীলতা ও চেরী এবং ফলের গাছ যেমন কাউফল, ঢেউয়া, হিজর ইত্যাদি রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে সাগরের নোনা পানির গাছ কেওড়া, বাইন, গেওয়া; পাহাড়ী জাতের হলদু, নাগেশ্বর, চাপালিশ, নাগালিংগম, আগর; ঔষধি গাছ অর্জুন, বহেরা, খয়ের; শোভা বৃদ্ধি গাছ কাঞ্চন, পলাশ; বিরল প্রজাতির বাঁশপাতা, সিভিট।
ফোয়ারা, পুকুর ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার
বিশ্রামাগারের সামনে একটি ফোয়ারা ও পুকুর, পুকুরের চারপাশে চারটি পাকা ঘাট এবং মাঝখানে একটি সুন্দর ফোয়ারা আছে। পুকুরে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য রয়েছে নৌকা, যা একসঙ্গে ২০ জন উঠতে পারে। পার্কের প্রধান আকর্ষণ হলো প্রায় ৫০ ফুট উঁচু পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। এই টাওয়ারের ওপর দিয়ে দর্শনার্থীরা আশেপাশের গ্রাম এবং সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।
সাংবাদিক ও দর্শনার্থীর মতামত
সোনাগাজী (ফেনী) সংবাদদাতা এবং অন্যান্য দর্শনার্থীরা উল্লেখ করেছেন, পার্কটি বিনোদনের জন্য সত্যিই মনোরম এবং এখানে প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে সবুজের সমারোহ উপভোগ করা যায়। পার্কে আসলে মানসিক প্রশান্তি এবং আনন্দ অর্জন সম্ভব।
পরিচালনা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা
সামাজিক বন বিভাগের ফেনী সদর উপজেলার রেঞ্জ কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র দাস জানান, পার্কটি জনসাধারণের বিনোদনের জন্য তৈরি। সপ্তাহের প্রতিদিনই এটি দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকে। পার্কে ভারী বন্যার কারণে কিছু ক্ষতি হয়েছে, যা অনেকাংশে মেরামত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে শিশুদের জন্য আরও শিক্ষণীয় রাইড, বর্ষাকালে টংঘর-গোল ঘর, প্রতিটি গাছে পরিচিতি নামপ্লেট এবং আধুনিক রঙিন ও দৃষ্টিনন্দন করণ করা হলে পার্কের আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি পাবে।
ফেনী বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, পার্কের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধি, বন্যপ্রাণীর আবাস ও প্রজনন উন্নয়ন, স্থানীয় জনসাধারণের বিনোদন এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধি। ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে পার্ক থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ১৫,৬৮,৬৫৩ টাকা।
সুত্র: wikipedia.org, dailysangram.com
প্রিয় পাঠক এই বিষয়ে আপনার কাছে কোনো তথ্য থাকলে আমাদের জানিয়ে সমৃদ্ধ করুন।
মুহুরী প্রকল্প: অবস্থান, যাতায়াত ও দর্শনীয় স্থান
Last modified: নভেম্বর ২৩, ২০২৫