বাংলাদেশের বাণিজ্য শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে উচ্চশিক্ষার প্রসারে যে ক’জন শিক্ষাবিদ আজীবন নিরলস ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন কাজী নুরুল ইসলাম ফারুকী। জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার রাখালিয়া গ্রামের এক শিক্ষানুরাগী পরিবারে। তাঁর পিতা ছিলেন মরহুম কাজী নুর মোহম্মদ এবং মাতা মোসাম্মৎ জয়নব বানু।
প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন নিজ গ্রামের বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯৬৭ সালে ব্যবস্থাপনায় বি.কম (অনার্স) সম্পন্ন করেন। এক বছর পর ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে এম.কম ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনার প্রতি তাঁর অদম্য আগ্রহ পরবর্তী সময়ে তাঁকে আরও উঁচু পর্যায়ের শিক্ষালাভে অনুপ্রাণিত করে। লন্ডন ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস থেকে তিনি প্রিলিমিনারি সনদ লাভ করেন, যা তাঁর আন্তর্জাতিক মানের একাডেমিক অর্জনের স্বীকৃতি।
শিক্ষকতা পেশায় তাঁর যাত্রা শুরু ১৯৬৯ সালে। প্রথমে তিনি ঢাকার টি এন্ড টি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। একই বছর তিনি জগন্নাথ কলেজে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে কয়েক বছর দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭৩ সালে ঢাকা কলেজে বদলি হয়ে আসেন। এরপর থেকে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ঢাকা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
কাজী নুরুল ইসলাম ফারুকী শুধু শিক্ষক নন, বরং একজন সফল গ্রন্থকারও। বাণিজ্য ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক তাঁর অসংখ্য পাঠ্যবই বাংলাদেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত আছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হলো—
- উচ্চ মাধ্যমিক ব্যাংকিং
- উচ্চ মাধ্যমিক কারবার পদ্ধতি ও বাণিজ্যিক পত্র যোগাযোগ
- উচ্চ মাধ্যমিক বাণিজ্যিক ভূগোল
- উচ্চতর ভূগোল
- বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও সচিবের কার্যপদ্ধতি
- বাণিজ্যিক ও শিক্ষা আইন
- চুক্তি আইন
- কোম্পানি আইন
শিক্ষার্থীদের সহজ ভাষায় জটিল বিষয়গুলো উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে প্রশংসিত। তাঁর বইগুলো দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য শিক্ষা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে।
শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি শুধু শিক্ষক নন, বরং এক অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব। সৎ, ন্যায়নিষ্ঠ ও আন্তরিক আচরণের জন্য তিনি সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে সমানভাবে শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে উঠেছেন। শিক্ষা তাঁর কাছে কেবল পেশা নয়, বরং এক আজীবন সাধনা।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাণিজ্য শিক্ষাকে নতুন কাঠামোয় দাঁড় করাতে যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের একজন কাজী নুরুল ইসলাম ফারুকী। ব্যবসা শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনা শাখার প্রসারে তাঁর একাডেমিক গবেষণা, বই এবং শিক্ষাদান নীতির প্রভাব সুদূরপ্রসারী।
সুত্র: নোয়াখালীর চরিতাভিধান
লেখক : জাহিদুল গণি চৌধুরী
Last modified: অক্টোবর ১২, ২০২৫