১৯২৬ সালে নোয়াখালীর রায়পুর উপজেলার রাখালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জনাব মোহাম্মদ ইসমাইল। গ্রামের মাটিতে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি পরবর্তীতে হয়ে উঠেছিলেন একজন শিক্ষক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ এবং রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর কর্মজীবন ও রাজনৈতিক জীবন সমানভাবে অনন্য, যা আজও স্থানীয় জনগণের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে।
শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন মনোযোগী ও অধ্যবসায়ী। উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করার পর কর্মজীবনের শুরুটা হয় শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে। কিছুদিন তিনি চৌমুহনী কলেজে অধ্যাপনা করেন। শিক্ষাদানের প্রতি গভীর অনুরাগ থাকলেও পরে তিনি পেশা পরিবর্তন করে আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
আইন পেশায় প্রবেশ করে জনাব ইসমাইল দ্রুতই নিজেকে দক্ষ আইনজীবী হিসেবে প্রমাণ করেন। তিনি নোয়াখালী বারের সরকারী কৌশলী (Public Prosecutor) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বার সমিতির সহ-সভাপতির পদে থেকে আইনজীবী সমাজে নেতৃত্ব দেন। তাঁর ন্যায়পরায়ণতা, কর্মদক্ষতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁকে আইন অঙ্গনে একটি সুপরিচিত নাম করে তোলে।
শুধু আইন ও বিচার ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি জনাব ইসমাইল। জাতীয় রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পর তিনি এর সঙ্গে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে দলের একজন শীর্ষ নেতা হয়ে ওঠেন। তিনি দলের ভাইস-চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেন, যা তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি বহন করে।
১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনাব ইসমাইল নোয়াখালী-রায়পুর এলাকা থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন। জনগণের বিপুল সমর্থনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর তাঁর দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণ বিবেচনায় সরকার তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর পদে নিয়োগ দেয়। এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন।
জনাব ইসমাইল ছিলেন একাধারে শিক্ষক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ এবং সমাজসেবক। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা। আইন অঙ্গনে তাঁর সততা যেমন সুপরিচিত ছিল, তেমনি রাজনীতিতেও তিনি ছিলেন একজন আদর্শবান নেতা। স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা, অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে তিনি বিশেষ অবদান রাখেন।
রাখালিয়ার মাটিতে জন্ম নেওয়া জনাব মোহাম্মদ ইসমাইল জীবনের নানা পর্বে যে অবদান রেখেছেন, তা আজও স্মরণীয়। শিক্ষকতা দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর কর্মজীবন আইন, রাজনীতি ও রাষ্ট্রপর্যায়ে বিস্তৃত হয়ে তাঁকে জনগণের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কর্মতৎপরতা, এবং একজন আইনজীবী হিসেবে তাঁর সততা ও দায়িত্বশীলতা তাঁকে ইতিহাসে স্থান দিয়েছে।
সুত্র: নোয়াখালীর চরিতাভিধান
লেখক : জাহিদুল গণি চৌধুরী
Last modified: অক্টোবর ১৩, ২০২৫