এক প্রজ্ঞাবান শিক্ষাবিদ, সম্পাদক ও প্রশাসক, যিনি বাংলাদেশে শিক্ষাজগৎ, সমাজকল্যাণ ও ইতিহাসচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর জীবন ও কর্মগাথা প্রমাণ করে যে নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দেশপ্রেম একত্রিত হলে সমাজে স্থায়ী প্রভাব তৈরি করা সম্ভব।
জনাব জমির আহমেদ জন্মগ্রহণ করেন নোয়াখালীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী ও অধ্যবসায়ী। শিক্ষাজীবনে তিনি সক্রিয় ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত হন। ১৯৫৮-৫৯ সালে তিনি ছাত্র মজলিসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৬১-৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এই সময় তাঁর নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা ও সহযোগিতামূলক মনোভাব শিক্ষাজগতের মধ্যে প্রশংসিত হয়।
শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর জনাব জমির আহমেদ সরকারি প্রশাসনে যোগ দেন এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট বিভাগের উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি চাকরিতে তাঁর কর্মজীবন ছিল দক্ষতা, নিষ্ঠা এবং প্রগতিশীল নীতির সমন্বয়ে পরিপূর্ণ। তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনকালে স্বচ্ছতা, জনকল্যাণ ও কার্যকারিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। অবসরের পর তিনি চট্টগ্রামে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।
জমির আহমেদ সাহিত্য ও ইতিহাসচর্চায়ও সমানভাবে নিষ্ঠাবান। তাঁর লেখা ‘ফেনীর ইতিহাস’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই গ্রন্থে ফেনীর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজের নানা দিককে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের, গবেষকদের এবং সাধারণ পাঠকদের জন্য মূল্যবান একটি দলিল হিসেবে বিবেচিত।
সাহিত্য, ইতিহাস এবং প্রশাসন—এই তিন ক্ষেত্রেই তিনি সমাজে অবদান রেখে গেছেন। চট্টগ্রামস্থ ফেনী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে তিনি স্থানীয় ও প্রবাসী ফেনীবাসীর মধ্যে সংযোগ ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সমিতির মাধ্যমে শিক্ষা, সামাজিক সহায়তা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে জনাব জমির আহমেদ ছিলেন বিনয়ী, ন্যায্য এবং প্রগাঢ় মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন। সহকর্মী ও সহপাঠীরা তাঁকে মনে রাখেন একজন নৈতিক, বিচক্ষণ এবং সমাজকল্যাণমুখী ব্যক্তি হিসেবে। তিনি সর্বদা বিশ্বাস করতেন, ব্যক্তিগত সাফল্য তখনই মূল্যবান যখন তা সমাজের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।
জমির আহমেদের জীবনগাথা শিক্ষাজগৎ, সরকারি প্রশাসন এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি খাতের এক অনন্য সংমিশ্রণ। তাঁর নেতৃত্ব, দক্ষতা এবং সৃজনশীলতা সমাজে স্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি করেছে।
সুত্র: নোয়াখালীর চরিতাভিধান
লেখক : জাহিদুল গণি চৌধুরী
Last modified: অক্টোবর ১৩, ২০২৫