জাহাঙ্গীর কবির ১৯৫৬ সালের ১ জুলাই নোয়াখালীর সদর উপজেলার দক্ষিণ শরীপপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলবী আজিজুর রহমান মিয়া এবং মাতা সৈয়দা নজিরা খাতুন ছিলেন। কিশোর বয়স থেকেই জাহাঙ্গীর কবির সাহিত্য ও কাব্যের প্রতি বিশেষ আগ্রহী ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি রচনাশীলতা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে শুরু করেন। তাঁর পরিবারের সহায়তা ও উৎসাহ তাকে সাহিত্যের জগতে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্র জগতে তাঁর আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু বয়স কম হওয়ায় তিনি নায়ক হিসেবে সুযোগ পাননি। যদিও পরবর্তীতে চলচ্চিত্রাঙ্গণের ডাক আসে, তবু উদাসীনতার কারণে তিনি সেখানে অংশগ্রহণ করেননি। তরুণ বয়সে সাহিত্য ও নাট্যের প্রতি তাঁর অনুরাগ ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। ১৯৬৯ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ‘বাইশ বছর পরে’ নামক নাটকে সুফিয়া চরিত্রে অভিনয় করেন, যা তাঁর নাট্যজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
১৯৭২ সালের শেষে বাংলা একাডেমির প্রবন্ধ লিখা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি সাহিত্যচর্চায় আরও সক্রিয় হন। ১৯৭৫ সালে নিজ গ্রামে ফিরে আসার পর চাকরির পাশাপাশি নাট্যচর্চা শুরু করেন। তিনি নিজে নাট্যরচনা করেন এবং তার অনেকগুলো নাটক মঞ্চস্থ হয়। তাঁর অভিনয় কৌশল ও নাট্যপ্রদর্শনের দক্ষতার কারণে তিনি দ্রুত সমাদৃত হন। বহু মঞ্চনাটক, টেলিভিশন নাটক এবং বিটিভি ও বিভিন্ন চ্যানেলের নাটকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
১৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীর কবির ঢাকার মতিঝিলের দিলকুশা এলাকায় ‘বঙ্গবার্তা’ নামে একটি পত্রিকায় চাকরি করেছিলেন। সাংবাদিকতার সঙ্গে সাহিত্যচর্চা চালিয়ে গিয়ে তিনি একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেন। তাঁর লেখার বিষয়বস্তু সাধারণ মানুষের জীবন ও সমাজের নানা দিকের সঙ্গে সংযুক্ত।
জাহাঙ্গীর কবিরের সাহিত্য ও নাট্যজীবনে একাধিক বিখ্যাত সহকর্মী ও শিল্পী ছিলেন। আবদুল্যা আল-মামুন, মমতাজউদ্দিন আহমদ, মুনীর চৌধুরী, আবদুল্যাহেল মাহমুদ, গৌতম রায়, শৈলেশ গুহ প্রমুখ নাট্যকর্মীদের সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন এবং প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই অবদানের কারণে তিনি নাট্যবিশ্বে ‘নটরাজ জাহাঙ্গীর কবির’ হিসেবে পরিচিতি পান। ঢাকার পাশাপাশি তাঁর জন্মভূমি ও স্থানীয় সমাজেও তিনি নাট্যকার ও সাহিত্যিক হিসেবে প্রশংসিত।
জাহাঙ্গীর কবির শুধু একজন নাট্যকার বা অভিনেতা নন, তিনি একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চারুশিল্পী, সাংবাদিক এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি স্বাধীনতার জন্য সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন, যা তাঁর জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর সাহিত্যকর্মে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
-
জ্যোৎস্নায় আঁধিয়ার (শাহীন প্রকাশনী)
-
শুধু কি আমার ভুল (শাহীন প্রকাশনী)
-
Vocabulary Global Passport (যৌথ; ডক্টর্স প্রকাশন)
লেখক ‘জাহাঙ্গীর’ নামে পরিচিত। তাঁর লেখা উপন্যাস, নাটক, কাব্যগ্রন্থ এবং প্রবন্ধ পাঠক ও নাট্যদর্শকদের মধ্যে সমাদৃত। অবিরাম লেখালেখি এবং নাট্যচর্চার মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।
সৃজনশীলতা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং সমাজের জন্য দায়বদ্ধতা জাহাঙ্গীর কবিরকে বাংলার সাম্প্রতিক সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তিনি আজও লেখালেখি এবং নাট্যচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করে।
প্রিয় পাঠক এই বিষয়ে আপনার কাছে কোনো তথ্য থাকলে আমাদের জানিয়ে সমৃদ্ধ করুন।
সূত্র : জাহাঙ্গীর পরিচিতি
Last modified: এপ্রিল ১৩, ২০২৬