ড. এ. বি. এম. হাবিবুর রহমান চৌধুরী বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্র ও ইসলামী গবেষণার এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। তিনি ১লা মার্চ ১৯৪৪ সালে চাটখিল উপজেলার সিংবাউড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মুন্সী জামালউদ্দীন এবং মাতা গুল বাহার বেগম। ছোটবেলা থেকেই তিনি শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ ও জ্ঞানচর্চার মনোভাব প্রদর্শন করতেন। পরিবার এবং সমাজের শিক্ষানুরাগী পরিবেশ তাঁকে মানসিক ও নৈতিকভাবে গঠন করতে সাহায্য করেছিল।
ড. হাবিবুর রহমান শিক্ষাজীবনের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাত্রা করেন। ১৯৭৪ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র ছিল আরবী ও ইসলামী শিক্ষা ও দর্শন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই গবেষণা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। তাঁর বিদ্যাগত দক্ষতা এবং গবেষণার গভীরতা তাঁকে শিক্ষাবিদ ও গবেষক হিসেবে স্বনামধন্য করে তোলে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর ড. হাবিবুর রহমান দীর্ঘদিন অধ্যাপক হিসেবে আরবী ও ইসলামী শিক্ষা বিভাগের শিক্ষাদান ও গবেষণায় অবদান রাখেন। তিনি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান এবং ধর্ম দর্শন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই পদে থাকা অবস্থায় তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও বৌদ্ধিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর শিক্ষাদানের ধারা ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত, শিক্ষার্থীরা তাঁকে এক নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে মনে করতেন।
ড. হাবিবুর রহমানের গবেষণা ও প্রবন্ধকর্ম শুধু দেশে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী শিক্ষা সমিতির সাধারণ সম্পাদক (১৯৮১) ছিলেন। এছাড়া, তিনি এসিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ এবং বাংলাদেশ দর্শন সমিতির সক্রিয় সদস্য হিসেবে সক্রিয় অবদান রেখেছেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতির স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রয়াল এসিয়াটিক সোসাইটি লন্ডন এবং ইসলামিক সোসাইটি লন্ডনের ফেলো নির্বাচিত হন।
তাঁর আন্তর্জাতিক অবদানের মধ্যে জেনেভার “ইসলাম এন্ড দি ওয়েস্ট” এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার দুই শততম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী (১৭৮০–১৯৮০) উদযাপন কমিটির অভ্যর্থনা কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সবসময় শিক্ষা, গবেষণা ও ইসলামী সংস্কৃতির প্রসারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন।
ড. হাবিবুর রহমান চৌধুরীর জীবন শিক্ষার প্রতি নিবেদিত, গবেষণার প্রতি নিষ্ঠাবান এবং ইসলামী সংস্কৃতি ও দর্শনের প্রচারে প্রতিশ্রুতিশীল। তাঁর অবদান বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা, ইসলামী শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক গবেষণার ক্ষেত্রে অমর হয়ে থাকবে। শিক্ষাজগতের জন্য তিনি আজও এক প্রেরণার প্রতীক।
সুত্র: নোয়াখালীর চরিতাভিধান
লেখক : জাহিদুল গণি চৌধুরী
Last modified: অক্টোবর ১৩, ২০২৫