ড. মুশফেকুর রহমান বাংলাদেশের নোয়াখালীর নোয়াখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ খান বাহাদুর নূরুল হক এবং মাতা জয়তুন নেছা। ছোটবেলা থেকেই মুশফেকুর রহমানের মধ্যে অঙ্ক ও বিশ্লেষণাত্মক চিন্তার অসাধারণ প্রতিভা লক্ষ্য করা যায়। তিনি তার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নোয়াখালীর স্ফূর্তিশীল শিক্ষা পরিবেশে সম্পন্ন করেন, যেখানে তিনি সবসময় শ্রেষ্ঠত্বের জন্য খ্যাতি অর্জন করতেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অঙ্কশাস্ত্রে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্কশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৬০ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা হলের প্রভোষ্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য অঙ্ক ও বিজ্ঞান শিক্ষার মানদণ্ড উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
ড. রহমানের গবেষণার ক্ষেত্র ব্যাপক ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। তিনি বিভিন্ন জটিল গাণিতিক তত্ত্ব ও বিশ্লেষণাত্মক গবেষণায় অবদান রেখেছেন। তার পিএইচডি অর্জনের পর থেকে তিনি আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সেমিনার এবং কর্মশালায় অংশ নিয়ে অঙ্কশাস্ত্রের জ্ঞান বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে দিতে কাজ করেছেন। তাঁর গবেষণা প্রায়শই অঙ্কের তাত্ত্বিক ও প্রয়োগমুখী বিষয়কে সমন্বয় করে, যা শিক্ষার্থীদের এবং সমকালীন গবেষকদের জন্য প্রেরণার উৎস।
ড. রহমান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। ১৯৮৩ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের পদক (Outstanding Teacher Award) লাভ করেন, যা তার শিক্ষাদান ও গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হয়। তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুসন্ধানী মনোভাব এবং সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি উদ্দীপিত করতে বিশেষ মনোযোগ দেন।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি, ড. রহমান সমাজসেবা ও শিক্ষার প্রসারে অবদান রেখেছেন। তার কর্মজীবন প্রমাণ করে যে, কেবল জ্ঞানার্জন নয়, জ্ঞান প্রচার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা তৈরি করাই প্রকৃত শিক্ষকের পরিচয়। আজও তার ছাত্রছাত্রীরা তাঁর শিক্ষণপদ্ধতি ও গবেষণার পদ্ধতিকে অনুসরণ করছে, যা অঙ্কশাস্ত্র ও শিক্ষাবিদ্যা ক্ষেত্রে অসীম প্রভাব ফেলেছে।
ড. মুশফেকুর রহমানের জীবন শিক্ষার প্রতি নিষ্ঠা, গবেষণার প্রতি উৎসাহ এবং মানবিক মূল্যবোধের এক চিরন্তন উদাহরণ। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং সমাজ ও জাতির জন্য মূল্যবান অবদান রাখার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।
সুত্র: নোয়াখালীর চরিতাভিধান
লেখক : জাহিদুল গণি চৌধুরী
Last modified: অক্টোবর ১৪, ২০২৫