দি নোয়াখালী ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড: ইতিহাস ও বিবরণ
দি নোয়াখালী ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যাংক। এর সদর দফতর ছিল কলকাতায়, যা তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলোর একটি ছিল। ব্যাংকটি শিডিউল্ড বা তফসিলি ব্যাংকের মর্যাদা পেয়েছিল, অর্থাৎ এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বীকৃত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এম. ডি.) ছিলেন মিঃ এস. সি. পাল।
ব্যাংকের শাখা নেটওয়ার্ক ছিল বিস্তৃত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য শাখা ছিল মেঘালয়ের শিলং, পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর এবং বিহারের জামশেদপুর। এই শাখাগুলো দিয়ে ব্যাংক স্থানীয় অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু থেকেই স্থানীয় ও আঞ্চলিক ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমৃদ্ধি এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করত।
কিন্তু মাত্র ৯ বছরের সেবা প্রদানের পরে, ১৯৪৯ সালে ব্যাংকটি দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়। দেউলিয়ার পর ব্যাংকের অর্থদাবি ও সম্পদ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার শিরোনাম ছিল “কার্তিক চন্দ্র পাল ও এএনআর. বনাম নোয়াখালী ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড”। আদালতে বিভিন্ন ক্রেডিটরের দাবি এবং প্রিভিলেজড বা প্রাধান্যপ্রাপ্ত দায়ের শ্রেণিবিভাগ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিশেষভাবে, ব্যাংকের কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) ও সিকিউরিটি ডিপোজিট দাবি প্রাধান্যপ্রাপ্ত দায় হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। এছাড়াও, ব্যাংক দ্বারা ইস্যুকৃত ড্রাফ্ট বা পে-অর্ডারের দাবিগুলোর শ্রেণিবিভাগও আদালতে বিচার করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, দি নোয়াখালী ইউনিয়ন ব্যাংক এবং তৎকালীন ইউনাইটেড ব্যাংকের দেশীয় শাখাগুলো এবং সম্পদ একত্রিত করে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করা হয়। এভাবে, দি নোয়াখালী ইউনিয়ন ব্যাংকের ঐতিহাসিক অবদান এবং সম্পদ বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বর্তমান সময়ে এই ব্যাংকের লিক্যুইডেশন সংক্রান্ত কিছু আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও ইতিহাসের অংশ হিসেবে উল্লেখযোগ্য। উদাহরণস্বরূপ, কলকাতা হাইকোর্ট ১৯৬৮ সালে ব্যাংকের লিক্যুইডেশন ও ক্রেডিটর শ্রেণিবিভাগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছিল। সাম্প্রতিককালে, জুন ২০২৫ সালে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংককে এই পুরাতন দেউলিয়া ব্যাংকগুলোর অফিসিয়াল লিকুইডেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দি নোয়াখালী ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড কেবল নোয়াখালীর সমৃদ্ধির ইতিহাসে নয়, বরং সমগ্র প্রাচ্যাঞ্চলের ব্যাংকিং ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গণ্য হয়। এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, শাখা নেটওয়ার্ক এবং পরিচালনাগত নীতি পরবর্তীতে জনতা ব্যাংকের ভিত্তি হিসেবে অবদান রাখে।
নোয়াখালী ব্যাংক এর জন্য এতটুকু তথ্য যথেষ্ঠ নয়। কারা কোন প্রেক্ষিতে এই ব্যাংক চালু করেছিল। কি পরিমাণ গ্রাহক ও লেনদেন ছিল ইত্যকার বিষয় জানতে পারলে তৎকালীন ভারতের ব্যাংকিং জগতে এই ব্যাংকের প্রভাব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেত।
সূত্র: উইকিপিডিয়া,
https://www.facebook.com/INTERNATIONAL GALLERY OF EPHEMERA & COLLECTIBLES
Last modified: নভেম্বর ২২, ২০২৫