নোয়াখালী বিভাগ আন্দোলনের ইতিহাস
নোয়াখালী জেলা
নোয়াখালী বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন জেলাগুলোর মধ্যে একটি । নোয়াখালীর প্রাচীন নাম ছিল ভুলুয়া। ব্রিটিশ শাসনামলে, ১৭৭২ সালে, এখানে জেলা প্রশাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়। ১৭৮৭ সালের ব্রিটিশ বাংলায় খাজনা আদায়ের জন্য পূর্ববঙ্গে যে ৪টি প্রধান জেলা ছিল সেগুলোর একটি ছিল নোয়াখালী।
নোয়াখালী জেলা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮২১ সালে, তখন এর নাম ছিল ভুলুয়া। তারপর ১৮৬৮ সালে, এক ভয়াবহ বন্যার পর নদীপথ পরিবর্তিত হলে এবং নতুন একটি খাল খনন করা হয়। সেই নতুন খাল থেকেই জেলার নতুন নাম হয় “নোয়াখালী” বা নতুন খাল। এসময় ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর মহকুমা নিয়ে নোয়াখালী জেলা গঠিত হয়েছিল। ১৯০৫ সালে বঙ্গবঙ্গ হলে ১৯১১ মালে বঙ্গ বঙ্গ রদ হওয়ার আগে ১৯১০ সালে নোয়াখালী অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে ভাবনা শুরু হয় এবং তখনো এই অঞ্চলের উন্নয়নের জনমত গড়ে উঠে। পুরনো নথিপত্রে জানা যায় তখনকার সুশীল সমাজ এসব নিয়ে সোচ্চার হয়েছিল।
১৭৮৭ সালের দিকে পূর্ববাংলা যে ৪টি জেলায় বা কালেক্টরালে বিভক্ত ছিল তার বাকী ৩টি ছিল ঢাকা, রংপুর ও মোমেনশাহী। ব্রিটিশ সরকার যে প্রধান ৪টি ভাগে এদেশকে ভাগ করেছিল তার ১টি ছিল নোয়াখালী। এই নোয়াখালীর বিস্তৃতি ছিলো কুমিল্লার দক্ষিণ অংশ থেকে একেবারে বাংলাদেশের শেষ সীমানা সেন্টমাটিন পর্যন্ত।
তাই নোয়াখালী বিভাগের প্রাসঙ্গিকতা নতুন নয় বরং পুরনো।
নোয়াখালী বিভাগের দাবী
১৯৮৪ সালে সকল মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করলে ফেনী ও লক্ষ্মীপুর নামে নতুন ২টি জেলার সৃষ্টি হয়। নোয়াখালীকে বলা শুরু করে বৃহত্তর নোয়াখালী। দেশকে ৬৪ জেলা ও ৪টি বিভাগে ভাগ করা হলে নোয়াখালী বিভাগের দাবী আবার উঠতে শুরু করে। ঢাকা. চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা। বর্তমান সিলেট বিভাগ তখন চট্টগ্রাম বিভাগের অংশ ছিল, রংপুর রাজশাহী বিভাগের অংশ ছিল এবং ময়মনসিংহ ছিল ঢাকা বিভাগের অংশ।
১৯৯৪ সালে নতুন করে বিভাগের জন্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম চৌধুরীর নেতৃত্বে নোয়াখালী বিভাগ চাই আন্দোলন শুরু করা হয়। একই জাতিসংঘের সামনে কনকনে শীতের মধ্যেও দীর্ঘ ৬ ঘন্টা অনশন করে দাবী জানানো হয়। ০১/১১/১৯৯৪ সাল থেকে শুরু হয় । ১০ দফা দাবি নিয়ে মাইজদী কোর্ট বিল্ডিং এর সামনে গণ অনশন কর্মসূচি পালন করা হয়। এখানে অন্যতম দাবী ছিল নোয়াখালী বিভাগ। বিশেষ করে বাংলাদেশ তখন মাত্র ৪টি বিভাগে বিভক্ত ছিল। এরপর ২০১২ সালে ‘নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি’ গঠিত হয়। তবে এবারের মতো এমন জোরালো ছিল তখনকার কর্মসূচি। এর বর্তমান সভাপতি সাইফুর রহমান।
গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিসমূহ:
- ১৯৯৪: ১ নভেম্বর মাইজদী কোর্ট বিল্ডিংয়ের সামনে ১০ দফা দাবিতে গণ-অনশনসহ একটি বড় কর্মসূচি পালিত হয়েছিল।
- ২০১২: ‘নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি’ গঠিত হয়।
- ২০২৫: সম্প্রতি এই আন্দোলনটি আরও বেশি জোরালো রূপ নেয়। জেলার বিভিন্ন পেশার মানুষ আন্দোলনে যুক্ত হন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান ধর্মঘট করা হয়। জেলার মাইজদীর মোহাম্মদীয় সড়ক এবং বেগমগঞ্জের চৌমুহনী চৌরাস্তায় মহাসড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচিও পালন করা হয়। আন্দোলন এখন শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে।
- বিদেশেও : লস অ্যাঞ্জেলেস, যুক্তরাজ্য) প্রবাসী নোয়াখালীবাসীরা এই দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।
- সামাজিক মাধ্যম: সকল সামাজিক ও গণমাধ্যমে এই দাবী ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল।
নোয়াখালী বিভাগের রুপরেখা
নোয়াখালী বিভাগ আন্দোলন এর উদ্দেশ্য হলো নোয়াখালীর স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠা করা। নোয়াখালী বিভাগ প্রতিষ্ঠার ৩টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা সচল ছিল।
প্রস্তাবনা ১: নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, কুমিল্লার ৩ উপজেলা লাকসাম, চৌদ্দগ্রাম ও লাঙ্গলকোট এবং চট্টগ্রামের মিরশ্বরাই। এই অঞ্চলকে নোয়াখালীর যে স্বতন্ত্র সংষ্কৃতি ও ভাষা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করা হয়।
প্রস্তাবনা ২: নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কৃমিল্লা। সহজ কথা হলো প্রস্তাবিত কুমিল্লা বিভাগকে নোয়াখালী বিভাগ হিসেবে চাওয়া।
প্রস্তাবনা ৩: শুধুমাত্র বৃহত্তর নোয়াখালী, তথা ফেনী কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুর। যার মানে হলো শুধুমাত্র সাবেক নোয়াখালী জেলা নিয়ে স্বতন্ত্র ও নতুন বিভাগ।
নিয়ে একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক বিভাগ গঠন করা। আবার কারো মতে , বর্তমান নোয়াখালী জেলাসহ কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলা নিয়ে এই নতুন বিভাগ গঠনের দাবি উঠেছে। আবার কেউ কেউ শুধু নোয়াখালীর ৩ জেলাকে নিয়ে বিভাগ গঠনের দাবী করছেন। মানে ফেনী নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরকে নিয়ে।
২০২২ সালের ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে বৃহত্তর ফরিদপুরের কয়েকটি জেলা নিয়ে ‘পদ্মা বিভাগ’ এবং কুমিল্লা ও আশপাশের জেলাগুলো নিয়ে ‘মেঘনা বিভাগ’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়। তবে তখন চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি। তখনো এই দাবী একবার জোরালো হয়ে উঠেছিল।
সম্প্রতি নোয়াখালীকে স্বতন্ত্র প্রশাসনিক বিভাগ ঘোষণার দাবিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২০২৫ সালে এসে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ হচ্ছে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ জেলার সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলো এই দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ মন্ত্রিপরিষদ সচিব আব্দুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রি-নিকার বৈঠকে ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে দুটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এরপরই নোয়াখালী বিভাগ আন্দোলনের দাবিটি আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
‘‘ পুরনো একটি নিউজ পেপারের পাতায় স্বচিত্র একটি খবরে লেখা রয়েছে, নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ ঘোষণার দাবিতে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে ৬ ঘণ্টাব্যাপী অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী নোয়াখালীবাসীদের একটি প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হাড়কাঁপানো শীতে এ অনশন চলে। অনশনকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড— “Noakhali Division”, “We Want Noakhali Division”, “Stop Discrimination” ইত্যাদি শ্লোগান লেখা।
অনশন শেষে তারা জাতিসংঘ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়—
নোয়াখালী বাংলাদেশের এক অবহেলিত অঞ্চল; দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীর উন্নয়ন বঞ্চিত। প্রশাসনিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ করা জরুরি। নোয়াখালীতে একটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অবহেলিত জনগোষ্ঠী ন্যায়সঙ্গত উন্নয়ন পাবে।
অনশনকারীরা আরও বলেন,
নোয়াখালী একটি ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও জনবহুল অঞ্চল। এখানকার মানুষ বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। কিন্তু প্রশাসনিক স্বীকৃতি পায়নি। তাই নোয়াখালী বিভাগ গঠন এখন সময়ের দাবি।
কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে নোয়াখালীপ্রবাসীরা অংশ নেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান—
বাংলাদেশ সরকারকে নোয়াখালী বিভাগের বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হবে; অন্যথায় আন্দোলন আরও বিস্তৃত করবে নোয়াখালীবাসীরা।
বিভাগের পক্ষে মূল যুক্তি
আন্দোলনকারীদের মতে, নোয়াখালীকে বিভাগ করার পেছনে নিম্নলিখিত যুক্তিগুলো রয়েছে:
- জনসংখ্যা ও আয়তন: বৃহত্তর নোয়াখালী প্রায় ৮০ লাখ মানুষ অধ্যুষিত একটি বড় এলাকা, যা বিভাগীয় শহর হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
- দূরত্ব ও প্রশাসনিক জটিলতা: চট্টগ্রাম বিভাগীয় শহর থেকে নোয়াখালী বেশ দূরে হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ে এবং সময় ও অর্থ অপচয় হয়।
- জিডিপিতে অবদান ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব: নোয়াখালী অঞ্চলের অর্থনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেশে আসা বৈদেশিক মুদ্রার (রেমিট্যান্স) একটি বড় উৎস। এখানে শিল্প, বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। নোয়াখালীর প্রবাসী জনগোষ্ঠি এবং দেশের প্রধান শহরগুলোতে শিল্প ও উদ্যোগে নোয়াখালীর সন্তানদের অবদান বিবেচনা করার কথাও বলেন কেউ কেউ। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গিয়েছে গড়পড়তায় দেশের সবচেয়ে ধনী মানুষের বাস এই জেলায়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে এই জেলায় সবচেয়ে কম দরিদ্র লোক বাস করে। যার হার মাত্র ৬ দশমিক ০১ শতাংশ। যা দেশের সবচেয়ে দরিদ্র জেলা মাদারীপুরের চেয়ে ৫৭% কম। উপজেলা হিসেবে মাদারীপুরের ডাসার ৬৩ দশমিক ০২ শতাংশ দারিদ্র্য নিয়ে দারিদ্রের শীর্ষে রয়েছে। নোয়াখালী গড় দারিদ্রের হার বিবেচনায় অর্থনৈতিক দিক থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম এমনকি সিলেট থেকেও এগিয়ে।
- ইতিহাস ও ঐতিহ্য: নোয়াখালী প্রাচীনত্ব, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শিক্ষাদীক্ষার দিক থেকে বিভাগ হওয়ার যোগ্যতা রাখে।
- উপকূলীয় উন্নয়ন: স্বতন্ত্র বিভাগ হলে এটি উপকূলীয় এলাকার প্রশাসনিক দক্ষতা ও উন্নয়নের বাস্তব রূপরেখা দিতে পারবে।
- প্রাচীন বিভাগ: যেহেতু ব্রিটিশ বাংলায় দেশের চারটি প্রধান ভাগের একটি নোয়াখালীকে কেন্দ্র করে করা হয়েছিল তাই এটি যৌক্তিক।
- সাংষ্কৃতিক স্বতন্ত্র: নোয়াখালীর সংষ্কৃতি বৃহত্তর বাংলাদেশের সংষ্কৃতির অংশ হলেও প্রধান প্রধান কয়েকটি এলাকার মতো এখানকার স্থানীয় ভাষা ও সংষ্কৃতির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিভাগীয় সদর দপ্তরের দূরত্বের কারণে প্রশাসনিক সেবা পাওয়ায় প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে আলাদা বিভাগ চাইছেন। সবচেয়ে বড় কথা নোয়াখালীর বাসিন্দারা মনে করেন তাদের একটি স্বতন্ত্র উপভাষা, ভিন্ন সংষ্কৃতি ও গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। তাই তারা মনে করেন দেশের ৪/৫টি বিভাগও যদি হয় তাহলে নোয়াখালী বিভাগ হওয়া যুক্তিযুক্ত।
আন্দোলনের পক্ষে আরো যুক্তি হিসেবে বলা হয় — ঐ অঞ্চলের ভূগোল, জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক-সামাজিক অবদান এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিবেচনায় নোয়াখালীকে একটি বিভাগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। এছাড়া এই অঞ্চলের ভৌগলিক ও সাংস্কৃতিক স্বতন্ত্রকে একটি বিভাগ হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে দেখা হয়।
নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী বাসীর জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদর দপ্তরে যেতে অনেক সময় ও ব্যয় হয়। আবার কুমিল্লা বোর্ডে আসতে হয়। শিক্ষাসংক্রান্ত কাজে। এদিকে বিভাগ জেলায় শিক্ষাবোর্ড অন্যজেলায় এটাকে নোয়াখালীবাসী মনে করেন একটি সমন্বয়হীনতা। এছাড়া পোস্টাল জোন। যদিও সরকারী তথ্য মনে চট্ট্রগাম বিভাগের সাথে নোয়াখালী থাকা এটা একটা ভৌগলিক এলাকা আর কুমিল্লা জোনের অন্তভূক্ত থাকাটা হলো প্রশাসনিক সুবিধা এছাড়া যাতায়াতের সুবিধা রয়েছে। বৃহত্তর নোয়াখালীর ৩ টি জেলা শহর থেকে কুমিল্লার দূরত্ব খুব বেশী নয় বিশেষ করে চট্টগ্রামের তুলনায়। তবে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যকারিতার জন্য আলাদা বিভাগের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন এখানকার বাসিন্দারা।
কেবল দেশেই নয়, দেশের বাইরেও এ নিয়ে আন্দোলন হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসেও নোয়াখালী বিভাগের দাবিতে আন্দোলন করেছেন প্রবাসীরা।
সাম্প্রতিক অবস্থা:
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষ এই দাবিতে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করেছেন। সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে নোয়াখালীকে বিভাগে উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পার্থক্যহীন উন্নয়ন সুযোগ এবং এলাকার স্বীকৃতি বাড়বে বলে নোয়াখালীর বাসিন্দারা মনে করেন। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মহল থেকেও সমর্থন পাওয়া গিয়েছে — উদাহরণ হিসেবে, Bangladesh Nationalist Party (BNP)–র নেতারা বলেছেন, ক্ষমতায় এলে নোয়াখালীর স্বতন্ত্র বিভাগ গঠনের উদ্যোগ নেবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির স্থানীয় নেতারাও এই দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
বিভাগের গুরুত্ব:
নতুন বিভাগ গঠিত হলে এই অঞ্চলের মানুষের প্রশাসনিক সেবা পাওয়া সহজ হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে একটি নতুন বিভাগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। স্টেডিয়াম, মেডিক্যাল কলেজ, সেনানিবাস, বিমান বন্দর, সমূদ্রবন্দর, নৌবন্দর ও সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মান ত্বরান্বিত হবে।
আন্দোলনকারীরা সোচ্চার করছেন যে, অন্য কোনো জেলা বা অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত না করে, শুধুই “নোয়াখালী” নামেই বিভাগ গঠন হওয়া উচিত। নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদের বর্তমান সভাপতি সাইফুর রহমান
নোয়াখালী বিভাগ আন্দোলন বাংলাদেশের বহুল আলোচিত আন্দোলনগুলোর মধ্যে একটি। এর উদ্দেশ্য বৃহত্তর নোয়াখালী নিয়ে একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত করা। প্রস্তাবিত কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা হলে এই আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন আলোচনার নতুন করে সূত্রপাত হয়।
নোয়াখালী বাংলাদেশের প্রাচীনতম জেলাগুলোর মধ্যে একটি। স্থানীরা দীর্ঘদিন ধরে এটিকে বিভাগ ঘোষণার দাবি করে আসছে। বিভাগ ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন আন্দোলন, কর্মসূচি ও মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এই আন্দোলনে জেলার বিভিন্ন পেশার মানুষ যুক্ত রয়েছেন।
তবে কেউ কেউ মনে করেন শুধু বিভাগ আন্দোলন এলাকার উন্নয়নের জন্য যথেষ্ঠ নয়। পাশাপাশি সমান্তরালভাবে আন্তজাতিক মানের হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, সেনানিবাস, নৌবন্ধর, সমূদ্রবন্দর, পরিকল্পিত সিটি কর্পোরেশন, নৌ-বাহিনী নিবাস, বিমান বাহিনী নিবাস, শিল্পাঞ্চল, ইপিজেড, পর্যটন এলাকা, স্টেডিয়াম, ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জোরালে লবিং ও কাজ করা দরকার। এগুলো হলো বিভাগ বাস্তবায়ন সহজ হয়ে যাবে।
আবার অন্যরা মনে করেন, বিভাগ হলে এসব অবকাঠামো এমনিতেই তৈরী হয়ে যাকে। তবে এখানকার সাধারণ মানুষের ভাষায় — “নোয়াখালী বিভাগ চাই” এখন শুধু একটি রাজনৈতিক দাবি নয়, আত্ম-পরিচয়, স্বীকৃতি ও উন্নয়নের প্রশ্ন।
সূত্র:
https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/c76nkkr2z2
https://thefinancialexpress.com.bd/bn/deser-sbceye-dhnee-jela-noyakhalee-dhakar-mdhze-dhnee-pltn
বই: দেখব বাংলাদেশ গড়ব বাংলাদেশ, জাহাঙ্গীর আলম শোভন, ঢাকা ২০১৭
www.shovonio.com
বি: দ্র: প্রিয় পাঠক এই বিষয়ে আপনার নিকট আর কোনো তথ্য থাকলে তা আমাদের জানান
Last modified: নভেম্বর ২৮, ২০২৫