বাংলাদেশের আঞ্চলিক শহরগুলো প্রায়ই অপ্রকাশিত থাকলেও পর্যটকদের জন্য অনেক কিছুই রয়েছে। উদীয়মান এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ফেনি সেই আঞ্চলিক সফলতার উদাহরণ। এক সময় ত্রিপুরা রাজ্যভুক্ত এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানিদের বোমাবর্ষণের মুখোমুখি হওয়া এই শহরটি ইতিহাসে সমৃদ্ধ।
ফেনির বিখ্যাত বিজয় সিংহ দিঘী ১৭৬০ সালে নির্মিত হয়েছিল। এটি ৩৭.৭৫ একর জায়গা দখল করে এবং ফেনি শহরের কাছে অবস্থিত। প্রাচীনকালে এক বৃদ্ধ লোক কেরোসিন বাতির আলোতে রাতের সময় নিজের পুতিপোরা ছড়ায় ফেনির ইতিহাস ও কাহিনী বর্ণনা করতেন। তিনি বলতেন, যুদ্ধবীর বিজয় সিংহ এবং তার স্ত্রী ভোলভোলা নদীর তীরে থাকতেন। একদিন নদীর ধারে গিয়ে তিনি শুনলেন নৌকাচালকের একটি গান, যা শীঘ্রই তাকে অনুপ্রাণিত করলো নদী বন্ধ করে দিঘী নির্মাণের জন্য।
দিঘী কেবল ইতিহাস নয়, বরং আধুনিক সময়ে পিকনিক স্পট হিসেবেও জনপ্রিয়। মাছ ধরার শখী, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ছোটখাটো চটপটি স্টল, এবং প্রেমিক-প্রেমিকারাও এখানে সময় কাটান। ফেনি তার কৌশলগত অবস্থান ব্যবহার করে ঢাকা-চট্টগ্রাম পরিবহন করিডরের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হয়ে উঠেছে। ফেনি বাজারে সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায় – শুকনো মাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার পর্যন্ত। শহরে বিদেশে কর্মরত প্রায় সব পরিবারে প্রেরিত অর্থ আছে, যা ক্রয়ের ক্ষমতা বাড়ায়।
ফেনি শহরের ইতিহাসও সমৃদ্ধ। ১৮৭৬ সালে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নোবিন চন্দ্র সেন ফেনি শহরের আধুনিক প্রতিষ্ঠা করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি বিমান হামলা চালায়। স্থানীয়রা জানিয়েছে, ফেনি বিমানবন্দর জাপানিদের কাছে বড় লক্ষ্য ছিল। কিন্তু ১৯৪৫ সালের মার্চ মাসের শেষ বৃহস্পতিবারের হামলার পর জাপানি আর ফিরে আসে না।
আজকের ফেনি তার অতীতকে সাথে রেখে ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে। ফেনি গার্লস ক্যাডেট কলেজের মতো প্রতিষ্ঠান শিক্ষার মান বাড়াচ্ছে। Principal মোঃ মখলেছুর রহমান কলেজের ক্যাডেটদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করছেন। শিক্ষার্থীরা একাডেমিক, খেলাধুলা এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সমানভাবে সফল।
ফেনির সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে ফেনির ‘অবসর’ ক্লাব। এই ক্লাবটি নোবিন চন্দ্র সেন শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করে, শীতকালে দরিদ্রদের উষ্ণ কাপড় দেয় এবং প্রয়োজনে সেলাই মেশিন বা রিকশাও প্রদান করে। ক্লাবটি বিনা মূল্যে এবং কেবল চরিত্রবানদের জন্য উন্মুক্ত।
ফেনি তার ইতিহাস, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সামাজিক উদ্যোগের সমন্বয়ে একটি অনন্য শহর হিসেবে পরিচিত। এখানে অতীত ও ভবিষ্যতের সেতুবন্ধন দৃশ্যমান এবং শহরটি উন্নয়নের ধারায় অব্যাহত রয়েছে।
Last modified: মার্চ ৩১, ২০২৬