বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ইতিহাসে কিছু নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে, যারা শুধুমাত্র ধর্ম প্রচারই করেননি, বরং সমাজে নৈতিকতা, শিক্ষাব্যবস্থা এবং মানবকল্যাণের চেতনা ছড়িয়ে দিয়েছেন। বখতিবখতিয়ার মৈশুর হলেন সেই প্রসিদ্ধ সুফী, যিনি সন্দ্বীপ অঞ্চলে ইসলামের প্রসার ও আধ্যাত্মিক চেতনার ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রেখেছেন।
বখতিবখতিয়ার মৈশুর সন্দ্বীপ অঞ্চলের একজন প্রখ্যাত পীর। তিনি খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীতে পূর্ববঙ্গে আগমন করেন, যখন ইসলাম প্রচার এবং ধর্মীয় শিক্ষার জন্য বিশেষ প্রয়োজনীয়তা ছিল। তিনি ছিলেন বারোজন আউলিয়ার একজন, যারা ইসলাম ধর্মের চেতনাকে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
সন্দ্বীপে তাঁর আগমনের পর থেকেই স্থানীয় মুসলমান সমাজ ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতার দিক থেকে সমৃদ্ধ হতে শুরু করে। ইসলাম প্রচারের সমস্ত গৌরব এই সুফী সাধকের প্রাপ্য। তিনি শুধু ধর্মীয় শিক্ষাদানই করেননি, বরং মানুষের মন ও চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে একটি স্থায়ী প্রভাব রেখেছেন।
বখতিবখতিয়ার মৈশুরের মাজার সন্দ্বীপের রোহিনী নামক স্থানে অবস্থিত, যা আজও আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুসারীরা এখানে আসেন তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে, দোয়া ও ইবাদত করতে। মাজারটি স্থানীয় জনগণের জন্য আধ্যাত্মিক প্রেরণার উৎস হিসেবে পরিচিত।
তার আধ্যাত্মিক জীবন ও সাধনা স্থানীয় মুসলমান সমাজকে ধর্মীয় সচেতনতা এবং নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ করেছে। সন্দ্বীপ অঞ্চলের ইসলামিক ইতিহাসে তার নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়।
বখতিবখতিয়ার মৈশুর শুধুমাত্র একজন পীর ছিলেন না; তিনি ছিলেন ইসলামের অনুপ্রেরক, সমাজ সংস্কারক এবং আধ্যাত্মিক শিক্ষক। তাঁর সাধনা ও প্রচেষ্টা নিশ্চিত করেছে যে সন্দ্বীপ ও আশেপাশের অঞ্চল ইসলামী শিক্ষায় সমৃদ্ধ হয়েছে।
আজও তাঁর মাজারে স্থানীয় মানুষ ও ভক্তরা তাঁর জীবন ও শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। বখতিবখতিয়ার মৈশুরের জীবন প্রমাণ করে যে, আধ্যাত্মিকতা ও ধর্মীয় প্রচেষ্টা সমাজের জন্য স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
সুত্র: নোয়াখালীর চরিতাভিধান
লেখক : জাহিদুল গণি চৌধুরী
Last modified: অক্টোবর ২৮, ২০২৫