বাঁশপাড়া জমিদার বাড়ি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার বাঁশপাড়া গ্রামে অবস্থিত একটি প্রাচীন জমিদার বাড়ি। এর স্থাপত্য, ইতিহাস এবং পাশে থাকা সাতটি মঠের কারণে স্থানটি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। এলাকাবাসীর কাছে এটি কখনো সাত মন্দিরের বাড়ি, কখনো সাত মঠ, আবার কখনো বিনোদ বিহারির বাড়ি নামে পরিচিত।

নির্মাণ ও ঐতিহাসিক পটভূমি

এই জমিদার বাড়িটি গড়ে তোলেন তৎকালীন হিন্দু জমিদার বিনোদ বিহারি। তিনি শুধু প্রধান ভবন নির্মাণই করেননি, পাশাপাশি ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবেও সাতটি মঠ তৈরি করেন। তার সময়ে বাড়িটি ছিল অত্যন্ত জমজমাট, মানুষজনের আনাগোনা ছিল বেশি। জমিদারীর প্রশাসনিক কার্যক্রম, কৃষি জমির তদারকি এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের কেন্দ্র হিসেবে এটি ব্যবহৃত হতো।

ভারতবর্ষ বিভক্ত হওয়ার পর ১৯৪৮ সালের দিকে বিনোদ বিহারি সব সম্পত্তি ছেড়ে কলকাতায় চলে যান। এরপর জমিদার বাড়িটি আর কেউ দেখভাল না করায় খুব দ্রুত পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।

স্থাপত্য ও কাঠামো

পুরো জমিদার বাড়িটি প্রায় আট একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। প্রচলিত বাংলার জমিদার বাড়ির মতোই এখানে মূল ভবন, উঠান, সিঁড়িঘর, অতিথিশালা এবং আলাদা অংশে অবস্থিত সাতটি চিতা মন্দির দেখা যায়।
সাতটি মঠের প্রত্যেকটির গঠন একেক রকম, তবে ইট এবং চুন-সুরকির মিশ্রণে তৈরি স্থাপনাগুলোর স্থায়িত্ব এখনো লক্ষ্য করা যায়। মঠগুলোর স্থাপত্যে হিন্দু ধর্মীয় ছাপ এবং প্রাচীন কারুকাজ স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।

বর্তমান অবস্থা

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জমিদার বাড়িটি আজ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বাড়ির চারপাশ লতাপাতায় ঢেকে গেছে। বিভিন্ন ভবনের ছাদ ভেঙে পড়ছে এবং মেঝের ইট বের হয়ে এসেছে। তত্ত্বাবধানের অভাবে ঐতিহাসিক এই স্থানটি প্রতি বছর আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এলাকাবাসী মনে করেন, সঠিক সংস্কার হলে এটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যে অনেক ভ্রমণপ্রেমী, ইতিহাস–গবেষক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর এখানে এসে ছবি তুলছেন।

সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

বাঁশপাড়া জমিদার বাড়ি শুধু একটি স্থাপনা নয়, ছাগলনাইয়া অঞ্চলের ইতিহাসের একটি অংশ। হিন্দু জমিদার সংস্কৃতি, পূর্ববঙ্গের স্থাপত্য রীতি এবং সমাজ কাঠামোর চিহ্ন এখনো এই বাড়িতে সংরক্ষিত আছে। সাত মঠ স্থানীয় ধর্মীয় কার্যক্রমেরও সাক্ষী হিসেবে টিকে আছে।

অবস্থান ও যাতায়াত

দেশের যেকোনো অঞ্চল থেকে বাস বা ট্রেনে ফেনীতে পৌঁছাতে হবে।
ফেনীর মহিপাল মোড় থেকে রিকশা বা সিএনজি নিয়ে প্রথমে যেতে হবে শহীদ হোসেন উদ্দিন বিপণী বিতান (শহীদ মার্কেট)।
সেখান থেকে আবার সিএনজি যোগে ছাগলনাইয়া বাজারে পৌঁছানো যায়।
বাজার থেকে বাঁশপাড়া জমিদার বাড়িটি খুব বেশি দূরে নয়, তাই হাঁটলেই সেখানে পৌঁছে যাওয়া যায়।
পথে গ্রামের শান্ত পরিবেশ, পুরোনো বাড়িঘর এবং সবুজ প্রকৃতি ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।

সম্ভাবনা

স্থানীয়দের মতে, যদি সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেয় তবে এটি পর্যটন–বান্ধব স্থানে রূপ নিতে পারে। সংস্কার করা হলে বাড়ির স্থাপত্য ও পরিবেশ নতুনভাবে মূল্যায়িত হবে এবং ইতিহাস আগ্রহীদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে।

সুত্র: wikipedia.org, mytourbd.com, medbox.iiab.me

প্রিয় পাঠক এই বিষয়ে আপনার কাছে কোনো তথ্য থাকলে আমাদের জানিয়ে সমৃদ্ধ করুন।

ছাগলনাইয়ার কৈয়ারা দীঘি

Was this article helpful?
YesNo

Leave a Reply

Close Search Window