ইতিহাস ও উৎস
বিজয় সিংহ দিঘি ফেনী জেলার অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী একটি জলাভবন। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে যে, এটি বিজয় সিংহ নামে এক রাজা অথবা সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেন‑এর কীর্তি হিসেবে খনন করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাসবিদদের মধ্যে একরকম একমত নেই: একদিকে আছে বিশ্বাস যে সেন বংশের বিজয় সেনই এটি করেছেন, আবার আছে দাবি যে স্থানীয় রাজা বিজয় সিংহ তাঁর মাকে সন্তুষ্ট করতে দিঘিটি খুলেছিলেন। জনশ্রুতি রয়েছে, একসময় এই দিঘিতে সোনা বা রূপার থালা ভেসে উঠত, এবং একবার একজন ভিখারিনী একটি থালা চুরি করে নেওয়ার পর থালা ভেসে ওঠা বন্ধ হয়ে যায়। আরও কিছু গল্প বলেছে, দিঘিতে ৭০–১০০ কেজি ওজনের বড় বড় মাছ পাওয়া যেতো, যা এর গুরুত্ব এবং রহস্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
১৯৯৫ সালে, ফেনীর প্রাক্তন জেলা প্রশাসক এ.এইচ.এম. নূরুল ইসলাম দিঘির পার্শ্বে প্রচুর গাছ রোপন করেন, যা বর্তমান সময়ে দিঘির চারিপাশকে সবুজ ও প্রাকৃতিকভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
ভৌগলিক অবস্থা ও পরিবেশ
বিজয় সিংহ দিঘি ফেনী শহর থেকে প্রায় ২ কিমি পশ্চিমে, বিজয় সিংহ গ্রামে অবস্থিত। দিঘিটির আয়তন প্রায় ৩৭.৫৭ একর। দিঘির চারপাশ উঁচু পাড়ে ঘেরা এবং ঘন সবুজ বৃক্ষ দ্বারা শোভিত, যা এক শান্ত ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করে।
দিঘির এক পাশেই গোসল বা ওজু করার ঘাট রয়েছে, এবং অন্য দিকে রয়েছে বসার জায়গা — এখানকার পরিবেশ পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য এক আরামদায়ক বিশ্রামস্থল।
ভ্রমণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা
-
যাওয়ার উপায়:
১) ফেনী জেলার ট্রাংক রোডের জিরো পয়েন্ট বা ফেনী রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিএনজি (অটোরিকশা) চড়ে দিঘিতে যাওয়া যায়।
২) এছাড়া, রিক্সা (মোটরিকশা) নিয়েও ফেনী শহরের মহিপাল ট্রাফিক পয়েন্ট হয়ে সার্কিট হাউজ রোড ধরে দিঘিতে পৌঁছান সম্ভব। -
আবাসন ও থাকার সুযোগ:
দিঘির কাছের ফেনী সার্কিট হাউজে থাকবার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া, মিজান রোডে ফেনী জেলা পরিষদের ডাকবাংলো, এলজিইডি রেস্ট হাউস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউস এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রেস্ট হাউস থেকেও অতিথিরা রাত কাটাতে পারেন। -
দর্শন ও পর্যটন:
বিকেলবেলায় দিঘির পাড় গুলোতে অনেক সময় পর্যটক আসে — অপেশাদার আড্ডা, ছবি‑সেলফি, প্রার্থনা, স্থানীয় খাবার বিক্রি ইত্যাদির জন্য এটি জনপ্রিয় স্থান।
সাংস্কৃতিক ও জনশ্রুতি দৃষ্টিকোণ
বিজয় সিংহ দিঘি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয় — এটি লোককথা, ইতিহাস ও লোকমিথ‑কাহিনীর এক কেন্দ্র। অনেকে বিশ্বাস করেন দিঘিটির গভীরে সোনা–রূপার থালা ছিল, আবার এমনও বলা হয় থালা চুরি হওয়ার পর থালা ভেসে ওঠা বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া দিঘিতে পাওয়া বড় মাছগুলোও নানা কাহিনীর জন্ম দিয়েছে। এই লোকগল্পগুলো দিঘিকে শুধু জলাভবন হিসেবে নয়, বরং সাংস্কৃতিক স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
সুত্র: Bangla Tribune, wikipedia.org
প্রিয় পাঠক এই বিষয়ে আপনার কাছে কোনো তথ্য থাকলে আমাদের জানিয়ে সমৃদ্ধ করুন।
ভাষা শহীদ আবদুস সালাম গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর
Last modified: নভেম্বর ২১, ২০২৫