মওলানা মমতাজউদ্দীন আহমদ ভূঁইয়া ছিলেন একাধারে শিক্ষক, লেখক ও একজন শ্রদ্ধেয় ধর্মজ্ঞ। তিনি ১৮৮৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর গ্রামে। পিতা ছিলেন মৌলভী জাহিদ ভূঁইয়া, যিনি পরিবারে ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন।
মমতাজউদ্দীন আহমদ শৈশব থেকেই জ্ঞানার্জনে আগ্রহী ছিলেন। ১৯১৬ সালে তিনি কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসা থেকে “টাইটেল” পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এর মধ্য দিয়ে তাঁর বিদ্যাশিক্ষার গৌরবময় পথচলা আরও সুসংহত হয়।
১৯১৯ সালে তিনি প্রভাষক হিসেবে কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসায় যোগদান করেন। এরপর ১৯২১ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে তিনি ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং দীর্ঘ ছয় বছর শিক্ষকতা শেষে ১৯৫৩ সালে সেখান থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
শিক্ষাদান ছাড়াও তিনি ছিলেন একজন চিন্তাশীল লেখক। তাঁর লিখিত গ্রন্থের মধ্যে “নবী পরিচয়” এবং “কুরআনের পরিচয়” বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই বইগুলোতে তিনি ইসলামী দর্শন, কুরআনের শিক্ষা ও নবীজীর জীবনাদর্শ সহজভাবে তুলে ধরেছিলেন।
তাঁর পরিবারের মধ্যেও শিক্ষা ও নেতৃত্বের ধারা প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও লেখক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তাঁর পুত্র। মওলানা মমতাজউদ্দীন আহমদ ভূঁইয়ার সততা, নৈতিকতা ও বৌদ্ধিক পরিশ্রম পরবর্তী প্রজন্মকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
তিনি ১৯৭৪ সালে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। জীবনের দীর্ঘ সময় শিক্ষাদান ও গবেষণায় কাটিয়ে তিনি যে উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, তা এখনো স্মরণীয়।
সুত্র: নোয়াখালীর চরিতাভিধান
লেখক : জাহিদুল গণি চৌধুরী
Last modified: অক্টোবর ১২, ২০২৫