জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯১ সালে। তিনি ছিলেন একজন ত্যাগী স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং মহাত্মা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ছোটবেলা থেকেই তিনি শিক্ষা ও সমাজসেবার প্রতি অনন্য আগ্রহী ছিলেন। সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চৌমুহনী কলেজ, মদন মোহন হাই স্কুল, গনিপুর গার্লস হাই স্কুলসহ বহু শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু শিক্ষার প্রসার ঘটায়নি, বরং সমাজের হতদরিদ্র ও প্রগতিশীল অংশের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে।
মহেন্দ্রকুমার সাহা সমাজের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায়ও নিবেদিত ছিলেন। তিনি সব সময় শান্তি ও সহমতের পরিবেশ বজায় রাখার জন্য কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন ধর্ম, সম্প্রদায় ও সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করতে উদ্যোগী ছিলেন। এই নৈতিক ও মানবিক দিক তাঁকে সমাজে অত্যন্ত প্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ব্যবসা ক্ষেত্রে তিনি চৌমুহনী চেম্বার অব কমার্সের সেক্রেটারি এবং ডেন্টা জুট মিলের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর ব্যবসায়িক দক্ষতা এবং ন্যায্য নেতৃত্ব চেম্বার ও শিল্প সংস্থার কার্যক্রমকে সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে তিনি সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকায় ব্যবসা এবং মানবিক দায়িত্বকে সমন্বয় করার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
মহেন্দ্রকুমার সাহা রেডক্রসের আজীবন সদস্য ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে স্বেচ্ছাসেবী কাজে অংশগ্রহণ করেছেন এবং বিপর্যয়কালীন সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এই মানবিক দিকটি তাঁর জীবনের একটি অন্যতম পরিচয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মহেন্দ্রকুমার সাহা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। মহাত্মা গান্ধীর নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে তিনি দেশপ্রেম এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত থাকার পাশাপাশি তিনি দেশের সমাজ ও শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী অবদান রাখার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মহেন্দ্রকুমার সাহা ১৯৮২ সালের ১৯ ডিসেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শেষকৃত্য ২২ ডিসেম্বর চৌমুহনীতে অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর জীবন শিক্ষা, সমাজসেবা, ব্যবসায়িক নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ—সব দিক মিলিয়ে অত্যন্ত প্রেরণাদায়ক। তিনি আমাদের জন্য একটি উদাহরণ, যিনি দেখিয়েছেন কিভাবে নৈতিকতা, সমাজকল্যাণ ও দেশের প্রতি দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখা যায়।
মহেন্দ্রকুমার সাহার অবদান শুধু তাঁর সময়কালের মানুষের জন্য নয়, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও প্রেরণার উৎস। তাঁর জীবন ও কর্ম আজও চৌমুহনী এবং দেশের সমাজে স্মরণীয় এবং অনুপ্রেরণামূলক।
সুত্র: নোয়াখালীর চরিতাভিধান
লেখক : জাহিদুল গণি চৌধুরী
Last modified: অক্টোবর ১৩, ২০২৫