বাংলাদেশের প্রবাসী সমাজে এমন মানুষ কমই আছে, যারা রাজনৈতিক বন্ধন থেকে দূরে থেকেও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে জনগণের জন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এ ধরনের অন্যতম নাম মোঃ সামছুল আমিন্যানিন। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার যুবসমাজের মাঝে নেতৃত্ব, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

জনাব সামছুল আমিন্যানিন ১৯৫৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার খিলবাইছা গ্রামে। জন্মগতভাবেই তিনি এমন পরিবারে জন্মেছিলেন, যেখানে সমাজসেবার চেতনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হত। তাঁর পিতা, জলাব বদিউজ্জামান, নিজ জীবনকে সমাজসেবার জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। বাবার এই দৃষ্টান্ত সম্ভবত সামছুল আমিনকে পরবর্তী সময়ে সমাজ ও যুবকল্যাণের ক্ষেত্রে সক্রিয় হতে প্রেরণা দিয়েছিল।

শিক্ষা ও ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহ সামছুল আমিন্যানিনর ছোটবেলা থেকেই স্পষ্ট ছিল। তিনি ট্যালেন্টপুলের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় এবং পরে এসএসসি-তে সরকারি বৃত্তি লাভ করেন। ছাত্রজীবনে বরাবরই তিনি ছিলেন কৃতি ছাত্র ও কৃতি খেলোয়াড়। ঢাকা কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি আন্তঃকলেজ ভলিবল টিমে উপ-দলনেতা ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান (M.S.S.) শেষ বর্ষে অধ্যয়নকালে, ১৯৭৮–৭৯ সালের মধ্যে তিনি একাধারে শিক্ষাগত এবং খেলাধুলার ক্ষেত্রে বিশেষ সফলতা অর্জন করেন। সেই সময়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র হিসেবে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সম্মানে দুইবার বঙ্গভবনে সম্বর্ধিত হন। এছাড়া চট্টগ্রামে নৌবিহারে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হন।

তিনি সূর্যসেন হলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ভলিবলে চ্যাম্পিয়নশীপ শিল্ডসহ মোট চারটি পুরস্কার জেতার গৌরব অর্জন করেন। ১৯৮১ সালে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডঃ এমাজউদ্দিনের নেতৃত্বে ভারত সফরে তিনি ছাত্র প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়াও, সামছুল আমিন ছিলেন একজন রোভার স্কাউট, যিনি জাতীয় ক্যাম্প ও শুটিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন।

আমিন্যানিন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বহু বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ঢাকাস্থ লক্ষ্মীপুর জেলা যুবকল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি। এছাড়া তিনি ঢাকাস্থ বৃহত্তর নোয়াখালী উন্নয়ন পরিষদের সাংস্কৃতিক সচিব এবং লক্ষ্মীপুর শিক্ষা ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক ও প্রচার সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন।

সামছুল আমিন্যানিন মাসিক ‘লক্ষ্মীপুর বার্তার সম্পাদকীয় উপদেষ্টা ছিলেন এবং এর প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর সম্পাদনায় ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় ‘নব দিগন্ত’, যা লক্ষ্মীপুর জেলার তথ্যসমৃদ্ধ ও ইতিহাসসম্বলিত সংকলন হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে।

তিনি জাতীয় সামাজিক ও যুবসংগঠনের সক্রিয় সদস্য। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—জাতীয় অধুমপায়ী ফোরাম, জাতীয় যুব কাউন্সিল, বাংলাদেশ বুক ক্লাব, লক্ষ্মীপুর জেলা বন্যা ত্রাণ কমিটি। সব ক্ষেত্রে তিনি দায়িত্বপূর্ণ ও সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন।

বর্তমানে জনাব আমিন্যানিন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত। সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করাই তাঁর পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

মোঃ সামছুল আমিন্যানিন শুধুমাত্র একজন সমাজসেবক বা নেতা নন; তিনি একজন প্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্ব, যিনি প্রবাসের সমাজ ও যুবসমাজকে প্রগতিশীল পথে পরিচালিত করেছেন। শিক্ষা, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সমাজসেবা—এই সব ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা লক্ষ্মীপুর জেলার এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর জীবন আমাদের শিক্ষা দেয় যে, কৃতিত্ব, সততা এবং সমাজসেবার মাধ্যমে একজন মানুষ কীভাবে প্রজন্মের জন্য প্রেরণা সৃষ্টি করতে পারে।

সুত্র: নোয়াখালীর চরিতাভিধান

লেখক : জাহিদুল গণি চৌধুরী

Was this article helpful?
YesNo

Leave a Reply

Close Search Window