রুহুল আমিন চৌধুরী ছিলেন নোয়াখালীর শিক্ষা ক্ষেত্রে এক প্রভাবশালী ও প্রতিভাবান শিক্ষাবিদ। তিনি নোয়াখালীর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা জীবনকে উজ্জ্বল করেছেন। ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই দীর্ঘকালীন সেবাজীবনে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষাগত মান উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে অপরিসীম অবদান রেখেছেন।
রুহুল আমিন চৌধুরী কেবল একজন প্রশাসক বা প্রধান শিক্ষক ছিলেন না; তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীদের চিরন্তন প্রেরণার উৎস। তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়ে আধুনিক শিক্ষণপ্রণালী, শৃঙ্খলা এবং মননশীল পরিবেশ গড়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা তাকে কেবল শিক্ষকের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং একজন পথপ্রদর্শক, পরামর্শদাতা ও বন্ধু হিসেবে মূল্যায়ন করতেন। তিনি স্থানীয় সমাজে শিক্ষার গুরুত্বকে প্রসারিত করতে বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং অভিভাবকের সঙ্গে কাজ করতেন, যাতে প্রতিটি শিশু শিক্ষার আলোতে আলোকিত হতে পারে।
শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রুহুল আমিন চৌধুরী শুধুমাত্র বিদ্যার্থীদের শিক্ষাদানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; তিনি নতুন বিদ্যালয় ও শিক্ষামূলক প্রকল্পের পরিকল্পনা, প্রবর্তনা এবং বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। ফলে তার গ্রামের ও এলাকার শিক্ষাগত মান বৃদ্ধি পায় এবং এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়।
দুর্ভাগ্যবশত, ১৯৮৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি আমাদের মাঝে নেই। তবে তার অবদান, শিক্ষা ক্ষেত্রে নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি নিষ্ঠা আজও স্মরণীয়। রুহুল আমিন চৌধুরীর জীবন প্রমাণ করে যে, একজন নিবেদিত শিক্ষক শুধু শিক্ষা দেয় না, বরং সমাজের চিন্তাভাবনা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
সুত্র: নোয়াখালীর চরিতাভিধান
লেখক : জাহিদুল গণি চৌধুরী
Last modified: অক্টোবর ১৫, ২০২৫