নাম: রোজী আফসারী (মূল নাম: শামীমা আক্তার রোজী), পরিচিতি: রোজী সামাদ

জন্ম: ২৩ এপ্রিল ১৯৪৬, লক্ষ্মীপুর, বাংলা (বর্তমানে বাংলাদেশ)

মৃত্যু: ৯ মার্চ ২০০৭, ঢাকা (কিডনিজনিত রোগে)

পেশা: চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, পরিচালক, প্রযোজক; বাংলা এবং কিছু উর্দু ছবিতে কাজ করেছেন।

বিশেষ: ১৯৭৫ সালের প্রথম সারাদেশীয় পুরস্কার অনুষ্ঠানে (Bangladesh National Film Award) “শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-অভিনেত্রী” বিভাগে পুরস্কার লাভ করেন — তিনিই প্রথম এই বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্ত।

রোজী ১৯৬৪ সালে Eito Jibon চলচ্চিত্র দিয়ে অভিনয় কেরিয়ার শুরু করেন। একই বছর তিনি Sangam (উর্দু) ছবিতেও অভিনয় করেন — যা তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম রঙিন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। তিনি বাংলা & উর্দু মিলিয়ে প্রায় ২০০+ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

রোজীর অভিনীত কিছু উল্লেখযোগ্য ও দর্শকপ্রিয় সিনেমাঃTitas Ekti Nadir Naam (১৯৭৩) —বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের এক শ্রেষ্ঠ ছবি। Jibon Thekey Neya (১৯৭০) — শিল্পী হিসেবে তার দক্ষতা ও মাধুর্য ফুটে উঠেছিল। Lathial (১৯৭৫) — এই ছবির জন্য তিনি প্রথমবার জাতীয় পুরস্কার পান। অন্যান্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র: Surjo Sangram, Surjo Grohon, Ashikkhito, Golapi Ekhon Trainey, Ei Ghor Ei Songshar প্রভৃতি।

১৯৮৬ সালে Asha Nirasha চলচ্চিত্র পরিচালনা করে সিনেমা-জগতে এক নতুন দিগন্ত খুলেছিলেন রোজী — বাংলাদেশের প্রথম নারী চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে। তাঁর পরিচালনায় এবং প্রযোজনায় (তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান “রোজী ফিল্মস”) বহু ছবি নির্মিত হয়েছিল।

তিনি দীর্ঘ দিন কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। ৯ মার্চ ২০০৭, ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ২৩ এপ্রিল ২০১৯ — তার ৭৩তম জন্মবার্ষিকীতে, Google-র হোমপেজে তাকে স্মরণ করে একটি বিশেষ ডুডল প্রকাশ করা হয়। ডুডল উদ্বোধনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে চলচ্চিত্র জগতের এই গুরুত্বপূর্ণ নায়িকার অবদান তুলে ধরা হয়।

কেন রোজী আফসারী আজও আবেদন রাখেন

বহুমাত্রিক প্রতিভা: নায়িকা, চরিত্রাভিনেত্রী, মা, ভাইবোন, সমাজবিরোধী নারী — নানা ভূমিকা পালনে পারদর্শী ছিলেন।

সিনেমায় পথ প্রশস্ত করা: একজন নারী হিসেবে পরিচালনায় যাওয়ার সাহসিকতার ফলে বাংলাদেশে চলচ্চিত্রে নারী পরিচালকদের পথ তৈরি হয়।

স্মরণীয় অভিনয় ও জনপ্রিয়তা: ২০০+ ছবিতে তার অবদান, বিশেষ করে “স্বর্ণযুগের সিনেমা” জাগিয়েছে যুগ যুগ ধরে।

ঐতিহ্যগত মূল্য: পুরস্কার-সম্মান লাভ ও প্রখ্যাত চলচ্চিত্রে অংশগ্রহণ — সব মিলিয়ে তিনি আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্মৃতিতে একটি অমোচনীয় চিহ্ন রেখে গেছেন।

রোজী আফসারী — নায়িকা, চরিত্র-অভিনেত্রী, পরিচালক, প্রযোজক: এই সব লিঙ্গনির্ভর মুহূর্তে যে নারী এই ভূমিকায় দাঁড়িয়েছে এবং বাংলা চলচ্চিত্রকে স্বর্ণালি-যুগে পৌঁছে দিয়েছে, তিনি সত্যিই এক কিংবদন্তি। জাতির চলচ্চিত্র-ঐতিহ্যে তার নাম চিরকাল বিস্ময়, সত্তা ও গর্ব উভয়ই বহন করে থাকবে।
২০১৯ সালে Google-র শ্রদ্ধার স্মারক “ডুডল” শুধুই একটা প্রতীক — তবে এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম জানল, যারা হয়তো জানতেও না, এই মুগ্ধকর অভিনেত্রীকে।

“বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগে রোজী আফসারীর অবদান, ছবি আর পুরস্কার পেরিয়ে — সে ছিল এক সময়ের সংহতি, প্রতিভা আর সাহস।”

Jagonews24+2বাংলা মুভি ডেটাবেজ+2

OkBangla+2Sokaler Alo+2

প্রিয় পাঠক এই বিষয়ে আপনার কাছে কোনো তথ্য থাকলে আমাদের জানিয়ে সমৃদ্ধ করুন।

Was this article helpful?
YesNo

Leave a Reply

Close Search Window