বাংলাদেশের নৃত্য জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্রদের মধ্যে অন্যতম লায়লা হক। তাঁর পূর্ণ নাম লায়লা আর্জুমান্দ বানু, যিনি শিশু বয়স থেকেই নৃত্যের মাধ্যমে সমাজের মন জয় করেছেন। তিনি একজন দক্ষ নৃত্যশিল্পী, শিক্ষক ও টেলিভিশন প্রযোজক, যিনি নৃত্যকে শুধু শিল্প নয়, শিক্ষার মাধ্যম হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
লায়লা হক নৃত্য ও সঙ্গীতের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা তাইফুল হক, আর মা মাহমুদা খানম ছিলেন একজন কণ্ঠ শিল্পী। এই সাংস্কৃতিক পরিবেশই শিশুকাল থেকেই লায়লা হককে নৃত্য ও সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। মাত্র ৪–৫ বছর বয়সে তিনি টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন শুরু করেন।
তাঁর পৈতৃক নিবাস কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট। পরিবার থেকে প্রাপ্ত সহায়তা ও উৎসাহই পরবর্তীতে তাঁর নৃত্যজীবনের ভিত্তি শক্তিশালী করে।
লায়লা হক ১৯৭৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাইকোলজিতে এম.এস.সি. ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮০ সালে তিনি বিআইভিএস (BIVS) টিচার্স অফিসার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। শিক্ষাজীবনে মননশীলতা ও শিল্পচর্চার সমন্বয় তাঁর পেশাগত জীবনের দিকনির্দেশক হয়ে ওঠে।
লায়লা হক নৃত্যশিল্পী হিসেবে একাধিক প্রতিষ্ঠিত কোর্সে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তিনি ‘নিক্কন ইনস্টিটিউট’ থেকে পাঁচ বছরের পূর্ণাঙ্গ কোর্স সম্পন্ন করেন এবং বাফা (BAFA) থেকেও নৃত্যের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ লাভ করেন।
ক্লাসিক্যাল নৃত্যের ক্ষেত্রে তিনি প্রশিক্ষণ নেন বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী মরহুম গওহর জামিলের কাছে। এই প্রশিক্ষণ তাঁর নৃত্যশৈলীর সূক্ষ্মতা ও অভিব্যক্তি বৃদ্ধি করে এবং তাঁকে একজন পূর্ণাঙ্গ নৃত্যশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
বর্তমানে লায়লা হক বাংলাদেশ ব্যালে ট্রুপের সদস্যা হিসেবে নৃত্যজগতে সক্রিয়। তিনি শুধু অভিনয় করেন না, শিক্ষাদানেও সমান নিষ্ঠাবান। নৃত্যের শিক্ষিকা হিসেবে তিনি নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পের ধারাকে সমৃদ্ধ করছেন।
এর পাশাপাশি, লায়লা হক বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রযোজক হিসেবেও কর্মরত। টেলিভিশনে নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রযোজনা করে তিনি দেশের সংস্কৃতি প্রচার ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
লায়লা হক মূলত ক্লাসিক্যাল নৃত্য এবং আধুনিক নৃত্যের সমন্বয়ে তাঁর অভিনয় ও শিক্ষাদানের জন্য পরিচিত। শিশুকাল থেকে অভ্যস্ত হওয়া ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং প্রশিক্ষণ তাঁকে একজন বহুমুখী নৃত্যশিল্পী ও শিক্ষকায়িত করেছে।
তাঁর শিক্ষণশৈলী শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি বিশ্বাস করেন, নৃত্য শুধু শারীরিক কসরত নয়, বরং এটি মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের একটি মাধ্যম।
লায়লা হক বাংলাদেশের নৃত্যজগতে এক অনন্য স্থান দখল করেছেন। শিশুকাল থেকে শুরু হওয়া নৃত্যচর্চা, উচ্চমানের প্রশিক্ষণ, শিক্ষকতা ও টেলিভিশন প্রযোজনার মাধ্যমে তিনি এক বহুমুখী শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বাংলাদেশ ব্যালে ট্রুপের সদস্যা, শিক্ষিকা ও টেলিভিশন প্রযোজক হিসেবে তাঁর অবদান দেশীয় নৃত্যশিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সুত্র: নোয়াখালীর চরিতাভিধান
লেখক : জাহিদুল গণি চৌধুরী
Last modified: অক্টোবর ২২, ২০২৫