লুৎফুল কবির ১লা ফেব্রুয়ারি ১৯১৮ সালে বাংলাদেশের ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার বল্লবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার জীবনশৈলী ও কর্মজীবন শিক্ষাবিদ, আইনজ্ঞ এবং সমাজসেবক হিসেবে আজও স্মরণীয়।
১৯৪১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনের প্রাথমিক অধ্যায়ের পর, ১৯৪১ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত তিনি রাজকীয় ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চাকুরি করেন। সেনাবাহিনীতে কর্মকাল তার শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব এবং দায়িত্বশীলতার মানসিকতাকে আরও দৃঢ় করেছে।
সেনা থেকে বিদায় নিয়ে, ১৯৫৪ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক হন। এর পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি সচেতনতা ও উৎসাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
তার উচ্চতর শিক্ষাগত অর্জন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৬৫ সালে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন শাস্ত্রে ডক্টরেট (Ph.D.) ডিগ্রি লাভ করেন। এই সময়ে তার গবেষণা, শিক্ষাদান ও বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানের বৈশিষ্ট্য বহন করে।
লুৎফুল কবির তার দীর্ঘ জীবনে শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেন। তিনি ছাত্রছাত্রীদের জন্য ছিলেন অনুপ্রেরণার উৎস, দৃষ্টান্তমূলক শিক্ষক এবং ন্যায়বিচার ও আইন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। তার অবদান শিক্ষাক্ষেত্র এবং আইন অনুষদের প্রগতিতে চিরস্মরণীয়।
দুর্ভাগ্যবশত, ১৯৮৪ সালে তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। তবে তার শিক্ষাদান, গবেষণা এবং আইন শিক্ষায় অনন্য অবদান আজও শিক্ষার্থী, গবেষক এবং শিক্ষাবিদদের জন্য চিরস্মরণীয় অনুপ্রেরণার উৎস। লুৎফুল কবির প্রমাণ করেছেন যে, কঠোর অধ্যবসায়, প্রতিভা এবং নিবেদন শিক্ষার পাশাপাশি সমাজ ও দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
সুত্র: নোয়াখালীর চরিতাভিধান
লেখক : জাহিদুল গণি চৌধুরী
Last modified: অক্টোবর ১৫, ২০২৫