বাংলা সমাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি কথার সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত— “লেখাপড়া করে যে, গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে।” সময়ের সঙ্গে আমরা বুঝতে শিখেছি যে কেবল লেখাপড়া করলেই জীবনের সফলতা নিশ্চিত হয় না। একাডেমিক ডিগ্রি জীবনযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় হলেও, কর্মজীবনে সাফল্যের জন্য প্রয়োজন দক্ষতা, সচেতনতা, আত্ম-অনুধাবন এবং বাস্তবমুখী প্রস্তুতি। এই সত্যটিকে সহজ ভাষায়, বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে এবং ছাত্রজীবনের প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছেন লেখক জাহাঙ্গীর আলম শোভন, তাঁর প্রভাবশালী গ্রন্থ “লেখাপড়া করে যে…”-তে।
বইটির মূল উদ্দেশ্য হলো ছাত্রজীবনেই কীভাবে নিজেকে দক্ষ, প্রস্তুত ও ভবিষ্যত-উপযোগী করে তোলা যায়, তার একটি বাস্তবসম্মত পথনির্দেশ দেওয়া। বর্তমান প্রজন্মের অনেক তরুণই কেবল পরীক্ষা–সার্টিফিকেট–CGPA–এর চক্রে বন্দি হয়ে নিজেদের প্রকৃত সক্ষমতা আবিষ্কার করতে পারে না। ফলে শিক্ষাজীবন শেষ হলেও চাকরি বা কর্মজীবন নিয়ে তারা বিভ্রান্ত, হতাশ কিংবা পিছিয়ে পড়ে। এই বই সেই বিভ্রান্তি কাটাতে সহায়তা করবে।
লেখাপড়া জীবনকে আলোকিত করে—এ সত্য অটুট। তবে সেই আলোকে বাস্তব দক্ষতার রূপ দেওয়া জরুরি। লেখক দেখিয়েছেন, শিক্ষাজীবন শেষে অনেকেই সফলতার পথে দ্রুত এগোতে পারে, আবার কেউ কেউ যথেষ্ট চেষ্টা করেও পিছিয়ে থাকে। যে লক্ষ্যহীন শিক্ষার কারণে পিছিয়ে পড়ে; আর যে বাস্তব দক্ষতা অর্জনের কারণে এগিয়ে যায়—এই দুটি দিক পাঠকদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
চার দশক ধরে বাংলাদেশের তরুণরা বরাবরই সার্টিফিকেট আর পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতা বদলে গেছে—এখন প্রয়োজন কেবল শিক্ষিত হওয়া নয়, বরং দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী এবং প্রস্তুত হওয়া। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক কর্মদক্ষতার মান—সব কিছু মিলিয়ে আজকের তরুণদের আগে থেকেই জানতে হবে—
-
কীভাবে নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে
-
কীভাবে আত্মোন্নয়ন ঘটাতে হবে
-
কোন দক্ষতা তাদের কর্মজীবন এগিয়ে নেবে
-
কিভাবে বাস্তব চিন্তা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়াতে হবে
এই বইতে সেই দিকগুলো সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
শুধু পরামর্শ নয়, পাঠকদের নিজেকে বোঝার জন্য বইটিতে রয়েছে—
বিভিন্ন আত্মমূল্যায়নমূলক প্রশ্ন
বাস্তব জীবন নিয়ে চিন্তা করার অনুশীলন
নিজের অবস্থান ও ভবিষ্যত লক্ষ্য নির্ধারণের ছক
ব্যক্তিগত যোগ্যতা যাচাইয়ের পদ্ধতি
এসব অনুশীলন ছাত্রদের আত্মপোলব্ধি বাড়াবে এবং তাদের বুঝতে সাহায্য করবে, তারা কোথায় আছে এবং কোথায় পৌঁছাতে চায়।
বইটির অন্যতম শক্তি হলো ছাত্রজীবন থেকে কর্মজীবনে উত্তরণের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা। লেখক দেখিয়েছেন—
কীভাবে শিক্ষার্থী সময়টিকে ব্যবহার করলে ভবিষ্যৎ মজবুত হয়
কীভাবে ব্যর্থতায় ভয় না পেয়ে দক্ষতা বাড়ানো যায়
কীভাবে নরম দক্ষতা (Soft Skills) ভবিষ্যতের চাকরি ও ব্যবসায় সাহায্য করে
কীভাবে পরিকল্পনা ও সময় ব্যবস্থাপনা তরুণদের সফলতার দিকে নিয়ে যায়
এই বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে গঠিত পরামর্শগুলো পাঠকদের আগামী পথচলায় কাজে লাগবে।
এই বইটি যে কারও জন্য নয়—এটি বিশেষভাবে উপযোগী—
-
স্কুল–কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
-
নতুন চাকরি–প্রত্যাশী তরুণ
-
যাঁরা ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন
-
যারা ছাত্রজীবন থেকেই নিজের ভবিষ্যৎ সাজাতে চায়
-
অভিভাবক, শিক্ষক ও পরামর্শদাতা, যারা তরুণদের পথ দেখান
আজকের বিশ্বে পরিবর্তনের গতি এত দ্রুত যে কেবল বইয়ের পড়াশোনায় থেমে থাকলে আর এগোনো যায় না। যোগাযোগ দক্ষতা, আইটি দক্ষতা, মানসিক দৃঢ়তা, সমস্যা সমাধারের ক্ষমতা—এসবই এখন শিক্ষাজীবনের সঙ্গে সমান গুরুত্বপূর্ণ। বইটি তরুণদের সেই গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো মনে করিয়ে দেয় এবং সফল ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নিতে উৎসাহিত করে।
লেখক তরুণদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন— আজই শুরু করুন নিজেকে গড়ে তোলার কাজ। একদিন দেরি মানে একদিন পিছিয়ে পড়া। বইটি তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে নিজেদের অবস্থান বুঝতে এবং ভবিষ্যতকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে।
বইয়ের তথ্য
-
শিরোনাম: লেখাপড়া করে যে… (হার্ডকভার)
-
লেখক: জাহাঙ্গীর আলম শোভন
-
প্রকাশক: ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ
-
ISBN: 9789849047698
-
প্রথম প্রকাশ: ২০১৯
-
পৃষ্ঠা: ১২৮
-
বিষয়: ছাত্রজীবন উন্নয়ন
-
দেশ: বাংলাদেশ
-
ভাষা: বাংলা
সার্বিকভাবে, “লেখাপড়া করে যে…” বইটি তরুণদের জীবন প্রস্তুতির বাস্তব নির্দেশিকা। ছাত্রজীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কীভাবে সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে, তা বইটি অনুপ্রেরণাদায়কভাবে তুলে ধরেছে।
Sources: pbs.com.bd
Last modified: ডিসেম্বর ৫, ২০২৫