ফেনীর ইতিহাসে একটি স্মরণীয় স্থাপনা
শমসের গাজীর কেল্লা ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানার জগন্নাথ সোনাপুর ও চম্পকনগরে অবস্থিত। এটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। শমসের গাজী ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী ও ত্রিপুরার রোশনাবাদ পরগনার কৃষক বিদ্রোহের নেতা। তিনি নবাব সিরাজুদ্দৌলার পর ব্রিটিশদের হাতে প্রথম নিহত হন এবং তৎকালীন সময়ে “ভাটির বাঘ” নামে পরিচিত ছিলেন।
অবস্থান ও ইতিহাস
শমসের গাজীর কেল্লা ভারতের সীমান্তের কাছে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার জগন্নাথ সোনাপুর এবং চম্পকনগর এলাকায় অবস্থিত। এই স্থানে রয়েছে শমসের গাজীর সুড়ঙ্গ, দীঘি এবং অন্যান্য স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা। তার প্রাসাদসহ অনেক স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে রয়ে গেছে।
বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে দুর্গটি বিলুপ্ত। তবে তার স্মৃতিবিজড়িত কিছু অংশ যেমন কৈয়্যারা দিঘী এবং গুপ্ত সুড়ঙ্গ এখনো অবশিষ্ট আছে। ভারতের ত্রিপুরা অংশে শমসের গাজীর বাঁশের কেল্লা রিসোর্ট নামে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে, যেখানে অনেক পর্যটক ভ্রমণ করেন।
শমসের গাজীর দিঘী
ফেনী জেলা থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে চম্পকনগরে শমসের গাজীর দীঘি অবস্থিত। শমসের গাজী ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা এবং ব্রিটিশ বিরোধী নেতা ছিলেন। তিনি স্থানীয় জনগণের সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে দীঘি খনন করান। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে শমসের গাজীর দীঘি একটি দর্শনীয় স্থান।
জন্ম ও জীবন
শমসের গাজী ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতৃহারা হওয়ার পর তিনি শুভপুরের তালুকদার জগন্নাথ সেনের কাছে বড় হন। মৃত্যুর আগে তিনি খাজনা আদায় ও জনসাধারণের সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তোলেন। জনগণের উন্নয়নে জনহিতকর কাজ শুরু করেন। ১৭৫৭ সালে ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
ভ্রমণ ও যাওয়ার পথ
ঢাকা থেকে ফেনী পৌঁছাতে শ্যামলী, ইউনিক, সোহাগ, গ্রিন লাইন, এস আলম, কেয়া বা সৌদিয়া বাসে যাত্রা করা যায়। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে মহানগর গোধূলি বা তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনে ফেনী যাওয়া সম্ভব। ফেনীর পরশুরাম উপজেলা থেকে হাসপাতাল মোড় হয়ে CNG বা ছোট যানবাহনে শমসের গাজীর দীঘিতে পৌঁছানো যায়।
থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা
ফেনী জেলার হোটেল বিলাস, হোটেল আল করিম, হোটেল গাজী ও হোটেল মিড নাইট উল্লেখযোগ্য আবাসন। চম্পক বাজারে হালকা চা-নাস্তা করার দোকান রয়েছে। এছাড়াও ফেনী শহরে বিভিন্ন মানের রেস্তোরাঁ ও হোটেলে খাবার পাওয়া যায়।
সুত্র: vromonguide.com, wikipedia.org, mytourbd.com
প্রিয় পাঠক এই বিষয়ে আপনার কাছে কোনো তথ্য থাকলে আমাদের জানিয়ে সমৃদ্ধ করুন।
Last modified: নভেম্বর ২৩, ২০২৫