শহীদ উল্লাহ কাইছার : একজন সংগ্রামী সাংবাদিক ও সমাজকর্মীর জীবনকথা

 

শহীদ উল্লাহ কাইছার ১৯৫৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের উত্তর করীমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এক বিশিষ্ট মুসলিম পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা আলহাজ্ব ইছহাক মুন্সী (ইছহাক মুগী) ছিলেন গ্রামের লাল মসজিদের ইমাম ও খতিব। মাতা রাজেবর নেখা (রাজবের নেছা)। দাদার নাম মনোহার আলী ও নানার নাম সফর আলী। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয় সন্তান।

 

জন্ম, পরিবার ও শিক্ষাজীবন

১৯৭৪ সালে দাগনভূঁইয়ার ঐতিহ্যবাহী আতাতুক হাইস্কুল থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন। এরপর ১৯৭৭ সালে ফেনী পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা এবং পরবর্তীতে সরকারি মুজিব কলেজ থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হন এবং ‘মাসিক শেত্তান্তর’–এ কাজ শুরু করেন।
কর্মজীবন ও সামাজিক অবদান
তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর সাংবাদিকতা করেন। বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক ও সংবাদপত্রের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি একাধিক শিক্ষা ও সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি একজন প্রত্যয়ী সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠক ও মানবাধিকারকর্মী হিসেবে সর্বদা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
১৯৮৯ সালে তিনি আমেরিকা গমন করেন। সেখানে গিয়েও তিনি সাংবাদিকতা চালিয়ে যান এবং বাংলাদেশি পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে নিউইয়র্কের সংস্কৃতিচর্চার সাথে যুক্ত হন। প্রবাসে তিনি দাগনভূঁইয়া সমিতির সভাপতি সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

পারিবারিক জীবন

তাঁর স্ত্রীর নাম রায়হানা নাসরিন। তিনি একজন সুগৃহিণী। তাঁদের চার সন্তান। বড় মেয়ে খালিদাতুল কোবর ও তাঁর স্বামী ড. শওকত হোসেন অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।

বংশপরিচয় ও পূর্বপুরুষের ইতিহাস

শহীদ উল্লাহ কাইছারের পূর্বপুরুষরা আনুমানিক ১৯০০ সালের দিকে ভাটি অঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করেন। তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে তাজউদ্দিন ভূঁইয়ার নাম উল্লেখযোগ্য। কথিত আছে, তিনি নৌকা বহর নিয়ে কলকাতা, মাদ্রাজ প্রভৃতি বন্দরে বাণিজ্য করতেন। তাজউদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে আকরাম উদ্দিন বেপারীর দুই ছেলে মনোহার আলী ও জাফর আলী। মনোহার আলী ছিলেন শহীদ উল্লাহ কাইছারের দাদা। ১৯১৬ সালের সিএস খতিয়ানে মনোহার আলী ও জাফর আলীর নাম পাওয়া যায়।

পিতামাতার স্মৃতি

তাঁর বাবা আলহাজ্ব ইছহাক মুন্সী অত্যন্ত ধার্মিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সহনশীল মানুষ ছিলেন। তিনি ছেলেমেয়েদের সম্মান ও শিষ্টাচার শেখাতেন। মা রাজেবর নেখা ছিলেন সাদাসিধে ও আত্মীয়স্বজনপ্রিয় মানুষ। গ্রামের লোকজন তাকে গভীর শ্রদ্ধা করতেন। ১৯৮১ সালের ২১ নভেম্বর বাবা ইন্তেকাল করেন। বাবার মৃত্যুর পর মা ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আমেরিকা প্রবাস ও বর্তমান জীবন

তিনি আমেরিকা গিয়ে প্রথমে নিজে বসবাস শুরু করেন, পরে তার ভাই হাবিব উল্লাহ, নূরনবী ও অন্যদেরও নিয়ে আসেন। ধীরে ধীরে পুরো পরিবার আমেরিকায় অভিবাসিত হয়। নিউইয়র্কে তিনি এখনও সাংবাদিকতা ও সামাজিক কাজের সাথে যুক্ত রয়েছেন। তিনি নিজের সন্তানদের জন্য রেখে যেতে চান তার বাবার জীবন থেকে শেখা সহনশীলতা, সংগ্রাম ও মূল্যবোধের শিক্ষা।

Was this article helpful?
YesNo

Leave a Reply

Close Search Window