শহীদ রমজান আলী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে তার অসাধারণ সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর বিক্রম খেতাব প্রদান করেছে।

রমজান আলী ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার মির্জানগরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা লাল মিয়া এবং মাতা মেহেরের নেছা। তিনি অবিবাহিত ছিলেন।

১৯৭১ সালে রমজান আলী চট্টগ্রাম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে শুরু হওয়া সামরিক হামলার পর তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। তিনি ২ নম্বর সেক্টরের রাজনগর সাবসেক্টরে মির্জানগর, কাউতলী, বিলোনিয়া, মুন্সিরহাট, সলিয়াদিঘিসহ বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭১। ৮ বা ৯ নভেম্বর ফেনী জেলার বিলোনিয়া থেকে রেললাইনের পাশ দিয়ে সমান্তরাল থাকা একটা কাঁচা রাস্তা দিয়ে ফেনী পর্যন্ত যাওয়া যায় এমন স্থানে চিথলিয়া-পরশুরামের মাঝামাঝি এই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে আগের রাতে ডিফেন্স নিয়েছেন রমজান আলীসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা। ভোর হওয়ার পর বেশ কিছু সময় কেটে গেল। এমন সময় চিথলিয়ার দিক থেকে একটা অস্পষ্ট আওয়াজ এল। কিছু সময় পর দেখা গেল, ওদিক থেকে একটা রেলের ট্রলি এগিয়ে আসছে। আস্তে আস্তে ট্রলিটা আরও এগিয়ে এল। মুক্তিযোদ্ধারা দেখতে পেলেন ট্রলিতে বসে আছে বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা। কিছুটা নিশ্চিন্ত মনে। ওরা বুঝতেও পারেনি মুক্তিযোদ্ধারা ওদের এত কাছে ফাঁদ পেতে রয়েছে। তারপর একসঙ্গে অস্ত্রের গর্জন। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে ট্রলিটা ধ্বংস হয়ে গেল। গোলাগুলির শব্দ শুনে চিথলিয়া ও পরশুরাম থেকে শুত্রুরা এগিয়ে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালাল। এমন সময় রমজান আলীর সহযোদ্ধা এয়ার আহমদ শত্রুর গুলিতে শহীদ হলেন। তাকে হারিয়ে কিছুটা মুহ্যমান হয়ে পড়লেও তারা শত্রুর হামলার প্রত্যুত্তর দিচ্ছিলেন। শত্রুরা তাদের ওপর একের পর এক আক্রমণ চালাচ্ছিল। সারা দিন ধরে এখানে যুদ্ধ চলে। শত্রুরা মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানে বৃষ্টির মতো আর্টিলারি শেলিং করে। মুক্তিযোদ্ধারা সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করছিলেন। যুদ্ধের একপর্যায়ে রমজান আলীও আহত হলেন। সহযোদ্ধারা তাকে দ্রুত ফিল্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা রমজান আলীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই দিন রাতেই তিনি মারা যান। শহীদ রমজান আলীর বাড়ি ছিল ওই এলাকাতেই। পরদিন কয়েকজন সহযোদ্ধা রমজান আলীর লাশ তার বাড়িতে নিয়ে যান। নিজগ্রামেই তাকে সমাহিত করা হয়। একসঙ্গে অনেক অস্ত্রের গর্জন ছিল সেদিন। চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। তার মধ্যে আর্তনাদ আর চিৎকার। শত্রুদের বেশির ভাগ নিহত। দু-তিনজন বেঁচে গেছে। তারা পালানোর পথ খুঁজছে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা তা হতে দিলেন না। একজন শত্রুও প্রাণে বাঁচতে পারল না। []

মুক্তিযুদ্ধের এই সাহসিকতার জন্য শহীদ রমজান আলীকে মৃত্যুর পর বাংলাদেশ সরকার বীর বিক্রম খেতাব প্রদান করেন।

সূত্র:
wikipedia

Was this article helpful?
YesNo

Leave a Reply

Close Search Window