সুবর্ণচর উপজেলা: শিক্ষা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কেন্দ্র

সুবর্ণচর উপজেলা নোয়াখালী জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক এলাকা। ২০০৪ সালে নোয়াখালী সদর উপজেলা বিভক্ত করে গঠিত হয় সুবর্ণচর এবং কবিরহাট উপজেলা। নোয়াখালী সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত সুবর্ণচর উপজেলার উত্তরে কোম্পানীগঞ্জ ও নোয়াখালী সদর উপজেলা, দক্ষিণে হাতিয়া উপজেলা, পূর্বে কোম্পানীগঞ্জ ও চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা এবং পশ্চিমে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলা অবস্থিত।

উপজেলার শিক্ষার হার গড়ে ৩২.৭%, যেখানে পুরুষ শিক্ষার হার ৩৪.০% এবং মহিলা শিক্ষার হার ৩১.৩%। এখানে ৫টি কলেজ, ১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৩টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১২টি মাদ্রাসা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সৈকত ডিগ্রি কলেজ (১৯৯৬), চর জব্বর ডিগ্রি কলেজ (১৯৯৬), শহীদ জয়নাল আবেদীন উচ্চ বিদ্যালয়, খাসের হাট উচ্চ বিদ্যালয়, আরজি উচ্চ বিদ্যালয়, চর জুবলি রববানিয়া ফাজিল মাদ্রাসা এবং চর বাটা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা উল্লেখযোগ্য।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সুবর্ণচর ছিল একটি দুর্গম চরাঞ্চল। স্থানীয় জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধারা সময়মতো পাকবাহিনীর প্রবেশ আটকায়। উপজেলার আট কোপালিয়া বাজারে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনের নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২৪১টি মসজিদ ও ৭টি মন্দির রয়েছে। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে একটি লাইব্রেরি রয়েছে। দর্শনীয় স্থান হিসেবে উল্লেখযোগ্য চর বাটা স্টিমার ঘাট।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি (৭০.৭২%), ব্যবসা (৯.৫৯%), অকৃষি শ্রমিক (৬.০১%), চাকরি (৩.৯১%), পরিবহণ ও যোগাযোগ (১.৭৫%) এবং অন্যান্য (৫.৯১%)। কৃষিভূমির মালিকানায় ভূমিমালিক ৫৪.০১% এবং ভূমিহীন ৪৫.৯৯%। প্রধান কৃষি ফসলের মধ্যে ধান, গম, সয়াবিন, চীনাবাদাম ও শাকসবজি রয়েছে। প্রধান ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, নারিকেল, খেজুর ও সুপারি রয়েছে।

উপজেলায় মৎস্য চাষ ৭%, গবাদিপশু ২২% এবং হাঁস-মুরগি ১৮%। যোগাযোগ ব্যবস্থায় রয়েছে ১১৯.২৮ কিমি পাকা রাস্তা, ৫৫.২১ কিমি আধা-পাকা রাস্তা ও ১৮৪.৭০ কিমি কাঁচা রাস্তা। বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহনের মধ্যে রয়েছে পাল্কি, ঘোড়া ও গরুর গাড়ি।

শিল্প ও কলকারখানার মধ্যে চালকল, তেলকল, আটাকল, বরফকল ও ওয়েল্ডিং কারখানা রয়েছে। কুটিরশিল্প হিসেবে লৌহশিল্প, মৃৎশিল্প, তাঁতশিল্প, বুননশিল্প, শীতল পাটি ও হাতপাখা উল্লেখযোগ্য। হাটবাজার ও মেলার মধ্যে খাসের হাট, ভূঁঞার হাট, থানার হাট, ছমির হাট, হারিছ চৌধুরীর বাজার, ওয়াপদা বাজার ও রাম গোবিন্দ বাজার উল্লেখযোগ্য। প্রধান রপ্তানিদ্রব্য হলো নারিকেল, সুপারি, মাদুর, শুটকি, দধি ও বিভিন্ন জাতের মাছ।

বিদ্যুৎ ব্যবহারের আওতায় উপজেলা সকল ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত। তবে ১৩.২% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। পানীয় জলের উৎস হিসেবে ৮২.২% নলকূপ, ০.১% ট্যাপ ও ১৭.৭% অন্যান্য ব্যবহৃত হয়। তবে অগভীর নলকূপে আর্সেনিকের উপস্থিতি দেখা গেছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থায় ৪৭.৬% পরিবার স্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে, ৩৭.৯% অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন এবং ১৪.৫% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় উপজেলা হাসপাতাল ১টি ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ৭টি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের জলোচ্ছ্বাস এবং ১৯৮৫, ১৯৯১ ও ১৯৯৮ সালের বন্যায় উপজেলার ঘরবাড়ি, গবাদিপশু ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

এনজিও কার্যক্রমে এখানে আশার, ব্র্যাক ও প্রশিকা কার্যক্রম সক্রিয় রয়েছে। সুবর্ণচর উপজেলা শিক্ষার পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা, শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

সুত্র: wikipedia.org , banglapedia.org

হাতিয়ার নামকরণের রহস্য ও জনপ্রিয় কাহিনী

Was this article helpful?
YesNo

Leave a Reply

Close Search Window