১৯৩২ সালে লক্ষ্মীপুরের কাফিলাতলী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম হাসমতউল্লাহ একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। ছাত্রজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন জনাব হাবিবুল্লাহ। দ্বিতীয়, চতুর্থ ও ৬ষ্ট শ্রেনীতে বৃত্তি লাভ করেন। পশ্চিম বাংলার বশির হাট হাইস্কুল থেকে ষ্টার মার্কসহ সরকারী বৃত্তি লইয়া প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করেন। প্রথম বিভাগে বৃত্তি সহ জগন্নাথ কলেজ থেকে আই, এস, সি, ও বি, কম, ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৫৩ সালে এম, কম, ডিগ্রী লাভের পর তিনি করটিয়া সাদত কলেজে এবং চৌমুহনী কলেজে কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তদানীন্তন বাণিজ্য বিভাগে প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষনা প্রকল্প ‘মার্কেটিং অব জুট’, ইউনেস্কো কর্তৃক প্রকাশিত গ্রন্থ ‘এ্যকুইজিশন এন্ড ইউজ অব ওয়েলথ’ এবং হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত গ্রন্থ “পাকিস্তান ডেভেলপমেন্ট” প্রকল্পে গবেষণা কাজে জড়িত ছিলেন। এই গবেষনার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি “কমন ওয়েলথ স্কলারশীপ” লাভ করেন এবং কানাডার পশ্চিম ওন্টারিও বিশ্ববিদ্যালয় হইতে এম, বি, এ, ডিগ্রী লাভ করেন। আমাদের পাট শিল্পে গণতন্ত্র সম্মত তদারকি ব্যবস্থার প্রয়োগ এর উপর গবেষণা করিয়া পি, এইচ, ডি, ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ব্যুরো তাঁর রচিত গ্রন্থ গুলি দেশে বিদেশে সুধীসমাজের নিকট সমাধৃত হইয়াছে। প্রখ্যাত পণ্ডিত বর্গ কলিন ক্লার্ক, ভেরা আনেষ্ট, রেনসিস লিক্ট এবং শুলজ বইগুলোর প্রসংসা করিয়াছেন তাঁদের নিজস্ব গ্রন্থে। দেশে পাঁচটি গুরুত্ব পূর্ন প্রকল্প পরিচালনা করেছেন তিনি। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান, বাণিজ্য অনুষদের ডীন, সিন্ডিকেট ও অর্থ কমিটির সদস্য ছিলেন এবং ব্যুরো অব বিজনেস রিসাচের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
ডঃ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ১৯৭৩-৭৪ সালে জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য, সরকারের টি ইনকোয়ারী কমিটির সদস্য, সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ইন্সরেন্স প্রাইভেটাইজেশন কমিটির চেয়ারম্যান এবং উত্তরা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডের ডাইরেক্টর, এবং জীবন বীমা কর্পোরেশনের পরিচালনা বোর্ডের ডাইরেক্টর হিসাবে নিযুক্ত আছেন। তিনি সরকারের দ্বি-বার্ষিকী পরিকল্পনার জন্য গঠিত প্যানেলের একজন সদস্য ছিলেন। বাংলা একাডেমী ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমিতির আজীবন সদস্য জনাব হাবিবুল্লাহ, বাংলাদেশ প্রবীন হিতৈষী সমিতির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ সমাজ বিজ্ঞানী সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিযুক্ত আছেন।
ডঃ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ১৯৬৬ সালে “ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান সাহিত্য পুরস্কার” ১৯৭০ সালে করাচীর “ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং স্বর্ণপদক”, ১৯৭৮ সালে “বিচারপতি ইব্রাহীম স্মারক স্বর্ণপদক” এবং ১৯৮০-৮১ সালে “আবদুর রব চৌধুরী স্বর্ণপদক লাভ করেন
তিনি ১৯৭৮ সালে পবিত্র হজ্জ পালন করেন।
Last modified: অক্টোবর ১৬, ২০২৫