হোসনে আরা শাহেদ বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। 
শিক্ষাজীবন শুরু করেন ঢাকার শেরেবাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ে, যেখানে তিনি পরে অধ্যক্ষ পদে নিযুক্ত হন এবং কর্মজীবন শেষ করেন।

হোসনে আরা শাহেদের লেখার মূল বিষয়বস্তু হলো মানুষের জীবন, মাতৃভূমি, মাতৃভাষা এবং দারিদ্র পীড়িত মানুষের সংগ্রাম। তাঁর রচনায় সচেতন উপলব্ধি ও নৈতিক শিক্ষার সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়।

  • ২০১২ সালের বইমেলায় প্রকাশিত বাংলাদেশে বাংলাভাষা গ্রন্থে তিনি মাতৃভাষা হিসেবে বাংলার গুরুত্ব এবং শুদ্ধ বাংলা চর্চার বিষয় তুলে ধরেছেন।

  • ২০১৬ সালে শত পাতা গ্রন্থে ছোট ছোট অনুভূতির মধ্যে শিক্ষণীয় বিষয় তুলে ধরেন।

  • তাঁর গল্প সরোজিনীর ছবি ভারতের দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষা বিভাগে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত।

হোসনে আরা সাহিত্যিক হিসেবে শিশু-কিশোর, প্রবন্ধ এবং সম্পাদকীয় রচনাতেও সক্রিয়।

উল্লেখযোগ্য বই:

  • চলমান দিন (১৯৭৭, বাংলাদেশ বুক ইন্টারন্যাশনাল)

  • নিহত আগুন্তুক (১৯৭৮, ওয়ারী বুক সেন্টার)

  • বৈরী সমাজ (১৯৮০, ওয়ারী বুক সেন্টার)

  • জীবন থেকে (১৯৮৬, নওরোজ)

  • ডায়নার ছেলে, সোনাভানের মেয়ে (১৯৮৮, পালক)

  • স্মৃতিময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (২০০৬, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন)

  • বাংলাদেশে বাংলাভাষা (২০১২)

  • শত পাতা (২০১৬)

  • আমাদের প্রিয় বঙ্গবন্ধু (নিখিল প্রকাশন)

সম্পাদিত বই:

  • Dhaka University in the Nineties, Unforgettable Dhaka University (২০০৬)

  • মুক্তিযুদ্ধের শতগল্প (২০০১, গ্লোব লাইব্রেরী)

কলাম ও প্রবন্ধ:

  • “বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দীন”, যায়যায়দিন, ৩০ নভেম্বর ২০১২

হোসনে আরা শাহেদ শেরেবাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি গণবিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি হিসেবে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন।

  • বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৯৮)

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগ এলামনাই এসোসিয়েশন বিশেষ পুরস্কার (২০১২)

হোসনে আরা সাহেদের সাহিত্য ও সামাজিক অবদান তাঁকে বাংলাদেশের প্রভাবশালী নারী লেখক ও শিক্ষাবিদের মর্যাদা দিয়েছে।

হোসনে আরা শাহেদের রচনায় মাতৃভাষা, মাতৃভূমি ও মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। তার সাহিত্যিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের শিক্ষাজীবন ও সাংস্কৃতিক চেতনায় বিশেষ অবদান রেখেছে।
তাঁর লেখার মাধ্যমে দারিদ্র পীড়িত মানুষের জীবন সংগ্রামের বাস্তবতা, মাতৃভাষার মূল্য এবং নৈতিক শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে, যা শিক্ষার্থী ও সাহিত্যিকদের জন্য সমানভাবে প্রেরণাদায়ক।

সূত্র : wikipedia

(en.wikipedia.org)

(bdnews24.com)

প্রিয় পাঠক এই বিষয়ে আপনার কাছে কোনো তথ্য থাকলে আমাদের জানিয়ে সমৃদ্ধ করুন।

Was this article helpful?
YesNo

Leave a Reply

Close Search Window